shopner bd
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
×

গ্রামে বসে তিন বোনের অনলাইন ব্যবসায় সাফল্য

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২১, ২১:২৭

সিরাজগঞ্জ

ঢাকায় একটি বেসরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা চয়নের। কিন্তু তখনই করোনার হানা। বাড়িতে আসার পর দীর্ঘ ছুটিতে আটকে যান। বাবার তাঁতের ব্যবসাটাও করোনার থাবায় বন্ধ হয়ে যায়।

কোন উপায় অন্ত না পেয়ে চয়ন শুরু করেন অনলাইনে খাবারের ব্যবসা। মাত্র দুই হাজার ৫০০ টাকা মূলধন নিয়ে গত ডিসেম্বরে শুরু করেন গ্রামভিত্তিক বাহারি খাবারের অনলাইন দোকান। এই উদ্যোগেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চয়নকে। ছোট দুই বোনের সহযোগিতায় স্বপ্ন দেখছেন সফল নারী উদ্যোক্তা হওয়ার। বাবা নাসিমুল গণি জুয়েল নিজেই খাবার সরবরাহ করে মেয়েকে উৎসাহ দিচ্ছেন। মাও সহযোগিতা করেন রান্না ও প্যাকেটিংয়ে।

সিরাজগঞ্জ বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জাকিয়া আফরোজ চয়ন, জুলিয়া আফরোজ নয়ন ও নুসরাত জেরিন অয়ন। চয়নের উদ্যোগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের খাবার এখন অনলাইনে মিলছে উপজেলার এই গ্রামে। বিরিয়ানি, রাইসবোল, পাস্তা, পিৎজা, বার্গার, কাচ্চি, তেহারি, চিকেন ফ্রাই, শর্মা, চাইনিজ খাবারসহ নানা ধরনের প্রায় ২০টি আইটেমের খাবার অর্ডার অনুযায়ী তৈরি হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পিৎজা, বার্গার, রাইসবোল। পিৎজা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৭৫ টাকায়, রাইসবোল ৯৯ টাকায়, বার্গার ৯৯ থেকে ১৫০টাকায়। এ ছাড়াও সাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন খাবার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত খাবারের অর্ডার আসতে থাকে। তবে তুলনামূলক বিকেলে ও প্রতি শুক্রবারে অর্ডার বেশি হয়ে থাকে।

শহরের নামি-দামি সব খাবার খুব স্বল্প দামে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন তিন বোন। মাত্র কয়েক মাস ধরে চলছে তাদের অনলাইন রেস্তোরাঁ। আর এতেই বিক্রি হচ্ছে দিনে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। যার থেকে আয় থাকছে প্রায় অর্ধাংশ। শুধু তাই নয় এখানে পাওয়া যায় চাহিদা মতো সব খাবার। তবে অর্ডার দিতে হয় ঘণ্টা দুয়েক আগে। খাবারের মান নিয়েও প্রশংসায় ভাসছেন এই উদ্যোক্তা।

জাকিয়া আফরোজ চয়ন বলেন, তিন বোন আর মা-বাবাকে নিয়ে আমাদের সংসার। বোনদের মধ্যে আমি সবার বড়। ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা। করোনার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। মেজো বোন নয়ন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে আর ছোট বোন অয়ন ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। গত বছর মার্চে লকডাউনের সময় ঢাকা থেকে গ্রামে এসে দীর্ঘ ছুটিতে আটকে যাই। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব।

মেজো বোন নয়ন জানান, বাবার তাঁতের ব্যবসাটাও করোনার থাবায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাবাকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই চিন্তায় পড়েন তিন বোন। বড় কোনো পুঁজিও হাতে নেই। করোনার এই সময়ে গ্রামে বসে অলস সময় কাটানো মোটেই ভালো লাগছিল না তাদের। তাই চয়ন প্রথমে অনলাইনে একটি ফেসবুক পেজ খুলে সিরাজগঞ্জের তাঁতকুঞ্জে উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস বাজারজাত করতে শুরু করেন। কিন্তু এই ব্যবসায় পুঁজির অভাবে খুব একটা আলোর মুখ দেখছিল না। তখন হঠাৎ চয়নের মাথায় আসে কীভাবে শহরের মতো গ্রামেও একটি অনলাইন রেস্তোরাঁ চালু করা যায়।

তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক ভালো অবস্থা। শুধু আমার গ্রাম না দূরদূরান্ত থেকে অর্ডার আসে। মাত্র পাঁচ মাসে টিএফসি এখন নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকার সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ডেলিভারির ব্যবস্থা না থাকার কারণে দূরের অর্ডারগুলো সরবরাহ করতে পারি না।

এলাকাবাসীরা জানান, চয়ন ছুটিতে বাড়িতে আসার পর প্রায় পাঁচ মাস আগে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি শুরু করেন। অনেকেই ভেবেছিল এটা তেমন কিছু হবে না, কিন্তু এখন তারাই তার প্রশংসা করছেন। করছেন তার খাবারের মানের প্রশংসাও। তবে গ্রামে বসে এতোটা অল্প দামে শহরের সব খাবার পেয়ে গ্রামবাসী আনন্দিত।

চয়নের বাবা নাসিমুল গণি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতাম। যা করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া বর্তমানে কাপড়ের ব্যবসাও অনেক খারাপ। তিন মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে অনেক হিমশিম খেতে হতো। এর মধ্যে মেয়েদের এমন উদ্যোগে এখন সংসার অনেক ভালো চলছে।

প্রতিদিনই অনলাইনে অর্ডার আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যথাসময়ে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেই। খাবার খেয়ে সবাই প্রশংসা করেন। মেয়ের এমন উদ্যোগে সত্যিই শুরুতে অবাক হয়েছিলাম। এখন এই উদ্যোগেই সংসারে সচ্ছলতা আসছে। স্বপ্ন আছে ভালোমানের একটা রেস্তোরাঁ দেব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।