shopner bd
শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
×

দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪৫০ বাংলাদেশী

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ১৭ জুলাই ২০২১, ২১:৩৫

দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪৫০ বাংলাদেশী

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার কারাদণ্ডের পর এক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে ব্যাপক লুটপাট ও সহিংসতা চলছে। এসব ঘটনায় দেশটির নাগরিকদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। সহিংসতায় কোনো বাংলাদেশীর মৃত্যু না হলেও শপিং মল-দোকানপাটে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ৪৫০ জনের বেশি বাংলাদেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার প্রবাসীরা।

এক সপ্তাহ ধরে চলা এসব তাণ্ডব কিছুটা কমলেও আতঙ্কে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না প্রবাসী বাংলাদেশীরা। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডারবান ও আশপাশের শহরে থাকা প্রবাসীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সহিংসতায় দেশটির অন্তত দুই শতাধিক ছোট-বড় বিপণিবিতান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৫০টির বেশি বিপণিবিতান। প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন, এসব শপিং মল ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর দোকানপাট ছিল।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন বলছে, চলমান সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশীদের সংখ্যা এত বেশি নয়। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও অনেক বাংলাদেশী আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।

বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলায় গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে কারাগারে পাঠানোর জের ধরে শুরু হয় সহিংসতা। এক পর্যায়ে ১১ জুলাই থেকে বিভিন্ন শপিং মল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট এমনকি অগ্নিসংযোগ শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাণিজ্যিক শহর ডারবান, সেন্ট পিটার্সবার্গ, ফাইনটাউনে চলে সহিংসতা। দেশটির সবচেয়ে বড় অঞ্চল সোয়েটো এলাকায় বড় আকারে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু হয়। এসব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী বসবাস করেন।

জোহানেসবার্গের ডেভিটন শপিং মলে গ্রোসারির ব্যবসা করতেন মেসবাহ উদ্দিন। পাঁচ বছর ধরে এ শপিং মলে ব্যবসা করেন তিনি। সেখানে পাঁচটি দোকান রয়েছে তার। যার প্রত্যেকটিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে। তিনি জানান, লুটপাটে তার দোকানগুলো পুরোপুরি খালি হয়ে গেছে। সহিংসতায় নিজের প্রাণ বাঁচাতে দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সহিংস তাণ্ডবের আতঙ্ক তার ভেতরে এখনো কাজ করছে। যে কারণে নিজের দোকানে যেতে ভয় পাচ্ছেন তিনি।

জোহানেসবার্গের আরেকটি শপিং মলে কসমেটিকস ও হেয়ার কাটিংয়ের ব্যবসা করতেন আরেক বাংলাদেশী শাহজাহান মিয়া। সহিংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি কাঁদতে থাকেন। তিনি বলেন, কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এখন দেশে পরিবার কীভাবে চালাব, আর নিজে কীভাবে চলব? দোকানের কী অবস্থা তা-ও জানেন না তিনি। আতঙ্কে আর আগুনের ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন বলেও বণিক বার্তাকে জানালেন।

প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলছেন, ডারবান ও জোহানেসবার্গ শহর দুটি মূলত বাংলাদেশী অধ্যুষিত। শহর ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার বাংলাদেশীর বসবাস। এসব শহরে তারা গ্রোসারি, কাপড়, ইলেকট্রনিক পণ্য ও সেলফোনের ব্যবসা করেন। তবে চলমান সহিংস বিক্ষোভে শুধু বাংলাদেশীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি। পাশাপাশি আফ্রিকান নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বলছে, সহিংসতায় গত এক সপ্তাহে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৪৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে ক্ষতির পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন রেন্ড (দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রা)। সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির ১০ বছরের বেশি সময় লাগবে।

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশীরা আফ্রিকান সরকার থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাবেন কিনা জানতে চাইলে দেশটির কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ক্ষতিপূরণ দিলেও বাংলাদেশীদের পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশীরা সেখানে বৈধভাবে ব্যবসা করলেও নিয়ম অনুযায়ী তারা ইন্স্যুরেন্স বা কোনো বীমা সুবিধার আওতায় পড়েন না। তাই তাদের জন্য ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

তবে দেশটির কিছু দাতব্য সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সেফ বাংলাদেশী’ নামে একটি প্রবাসী সংগঠন। তারা বলছে, এখনো বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চলছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। কোনো বাংলাদেশী নিহত বা আহত হচ্ছেন কিনা তার খোঁজখবরও রাখা হচ্ছে।

সংগঠনটির প্রতিনিধি এসএম মো. মোশাররফ বলেন, ডানবান ও আশপাশের এলাকায় সহিংস ঘটনায় ৪০০ থেকে ৪৫০ বাংলাদেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এখন পরিস্থিতি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

চলমান সহিংসতার বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নূর-ই-হেলাল সাইফুর রহমান বলেন, সহিংসতায় আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সতর্কভাবে ও নিরাপদে চলাফেরার অনুরোধ জানিয়েছি। এছাড়া যাদের কাছে ক্যাশ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে, সেগুলো নিরাপদে রাখতে বলেছি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।

এ ঘটনায় দূতাবাসের কেবল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে ক্ষোভ জানিয়েছেন সেখানকার বাংলাদেশীরা। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সেরেছে। তাদের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসের উচিত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সহযোগিতা করা।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশী রয়েছেন। যাদের বেশির ভাগ দেশটিতে ‘অ্যাসাইলাম সিকার’ হিসেবে আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সহিংসতায় গতকাল পর্যন্ত ২১২ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে ২ হাজার ৫০০-এর অধিক মানুষ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।