shopner bd
শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ | ২৭ চৈত্র ১৪২৭ | ২৮ শা'বান ১৪৪২
×

যেভাবে উন্নয়শীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ২১ মার্চ ২০২১, ২০:২৬

যেভাবে উন্নয়শীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছেন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কীভাবে এদিয়েছি আমরা? সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত কৃষি খাতেও নতুন নতুন জাতের ফলন শুরু হয়েছে। গতানুগতিক ধান, গম, আলু, ভুট্টা ছাড়াও ক্যাপসিকাম, ড্রাগন ফল কিংবা স্ট্রবেরির মতো নতুন কৃষি পণ্যের উৎপাদন শুরু হয়েছে।

যেগুলোতে অনেক কৃষক যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি কর্মসংস্থানও হয়েছে। উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশ এখন খাদ্যেও স্বয়সম্পূর্ণ।

কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশ হয়েও স্বাধীনতার পরে খাদ্য ঘাটতি ছিল ব্যাপক। সেই সময়ে দারিদ্র্য এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণেও বিশ্বে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ। তাচ্ছিল্য করা হত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে। মোটাদাগে কয়েকটি সূচকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের অর্থনীতির চিত্র বোঝা যায়।

বিবিএস এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব সূচকের প্রথম যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল মাত্র ২৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেসময় জিডিপির আকার ছিল ৭ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় মাত্র ১২৯ ডলার। দারিদ্যেরর হার ৭০ শতাংশ।

পঞ্চাশ বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে রফতানি আয় বহুগুণে বেড়ে মিলিয়ন ডলার থেকে এসেছে বিলিয়ন ডলারের ঘরে। ২০২০ সালের হিসেবে যা ৩৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জিডিপি আকার ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে বেড়েছে ৩৬৯ গুণ। পরিমাণে যা প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬ গুণ। অর্থাৎ ২ হাজার ৬৪ ডলার। দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।

একসময় যে দেশটি তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত ছিল এখন বলা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে সেই দেশটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

স্বল্পোন্নত থেকে দেশটি এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হয় ১৯৭৫ সালে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে ৩টি শর্ত রয়েছে।

২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ৩টি শর্তই পূরণ করে। পরে ২০২১ সালেও ৩টি শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয়তা দক্ষতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনও দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। বাংলাদেশ সেই সুপারিশ পেয়েছে।

জাতিসংঘের ৩টি শর্তের প্রথমটি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়। এরপর অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং সবশেষে মানবসম্পদ উন্নয়ন। মাথাপিছু আয়ে জাতিসংঘের শর্ত পূরণে ন্যনতম দরকার এক হাজার ২৩০ ডলার। বাংলাদেশে সেখানে ২০২০ সালে মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৬৪ ডলার।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি কতটা আছে, সেটা নিরূপণে ১০০ স্কোরের মধ্যে ৩২ এর নিচে স্কোর হতে হয়। বাংলাদেশ সেখানে নির্ধারিত মানের চেয়েও ভালো করেছে। অর্থাৎ ২৫ দশমিক ২ স্কোর করেছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন যোগ্যতায় দরকার ৬৬- এর উপরে স্কোর। বাংলাদেশ সেখানে পেয়েছে আরো বেশি ৭৩ দশমিক ২ স্কোর।

দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দশকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রফতানি আয় বেড়েছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে। কৃষি-শিল্পের উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নও হয়েছে।

মূলত প্রান্তিক পর্যায়ে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন, রফতানি বৃদ্ধি -সবমিলিয়েই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশে। শুরুতে কৃষি খাত এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখলেও আশির দশক থেকে সেখানে মূল ভূমিকা রাখতে শুরু করে শিল্প খাত।

আরো নির্দিষ্ট করে বললে তৈরি পোশাক খাত। রফতানি এবং কর্মসংস্থান দুই ক্ষেত্রেই তৈরি পোশাক খাতের বড় ভূমিকা আছে। বাংলাদেশ রফতানি করে এখন যে আয় করে তার ৮৩ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অন্যদিকে এ খাতে কাজ করে লাখ লাখ শ্রমিক যাদের সিংহভাগই নারী। তাদেরও জীবন মানের উন্নয়ন ঘটেছে।

শুধু অর্থনৈতিক সূচক নয়, বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে মানবসম্পদ সূচকেও গুরুত্বপূণ উন্নতি করেছে। জাতিসংঘের সূচকে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। এই সূচকের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মূলত শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি।

বিবিএস-এর হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫৩ জন। যেটি ২০১৮ সালে এসে প্রতি হাজারে মাত্র ২২ জনে নেমে আসে।

এছাড়া বিবিএস ১৯৮১ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দিয়েছে প্রতি হাজারে ২১২ জন। যেটি ২০১৮ সালে হয়েছে প্রতি হাজারে ২৯।

১৯৯১ সালে মাতৃ মৃত্যুর হার ছিলে ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সেটি এখন এক দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অপুষ্টি এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি সেখানে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া এবং সেবা নিতে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সরকারের সঙ্গেও আর্থিক কিংবা অন্যান্য সুবিধা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করেছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মানবসম্পদ সূচকে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিরেট অর্থনৈতিক সক্ষমতাও এমনভাবে বেড়েছে যেখানে বিদেশি ঋণ সহায়তা নির্ভর উন্নয়নে অভ্যস্ত বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছে ত্রিশ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট পদ্মাসেতু।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেটি গেল পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের রূপান্তরের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।