সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:২৭
মার্চে ইউপি নির্বাচন শুরু করার কথা থাকলেও তা পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে ঈদের পর এ ভোট শুরুর চিন্তা করছে (ইসি) । এপ্রিলে রমজান শুরু হওয়ার কারণে এ নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২ মার্চ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন (ইসি) ,তবে এপ্রিলের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে এমন ২০-২৫ টি ইউপিতে রমজানের আগে ভোট হতে পারে। এ ছাড়া ২১ মার্চের মধ্যে ৭৫২ ইউপিতে ভোট করার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী ‘দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবধি কোনো কারণে নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।’
বর্তমানে সারা দেশে ইউপি সংখ্যা ৪ হাজার ৪৮৩টি। এর মধ্যে ছয় ধাপে ভোট হয়েছে ৪ হাজার ৩২১টিতে এবং অন্যান্য সময়ে ভোট হয়েছে ১৬২টিতে। ২১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনী সময় শেষ হবে ৭৫২ ইউপির, ৩০ মার্চ সময় শেষ হবে ৬৮৪ ইউপির, ২২ এপ্রিল সময় শেষ হবে ৬৮৫ ইউপির, ৬ মে সময় শেষ হবে ৭৪৩ ইউপির, ২৭ মে সময় শেষ হবে ৭৩৩ ইউপির এবং ৩ জুন শেষ হবে ৭২৪ ইউপির মেয়াদ।
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিয়ে মার্চের মাঝামাঝি ৭ শতাধিক ইউপিতে ভোট করার কথা ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হবে ২ মার্চ। তাই তালিকা চূড়ান্ত না করে এ নির্বাচনের তফসিল দিতে চাইছে না কমিশন। কেননা তালিকা চূড়ান্ত না হলে নতুন ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোটদান করতে পারবেন না। তাই আইনি জটিলতা এড়াতেই ইসি এ নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে রমজানের আগে বড় পরিসরে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা দুটি বিষয় দেখব। প্রথমত রমজান, দ্বিতীয়ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত আছে কিনা। হালনাগাদ তালিকা ও আগের তালিকা একসঙ্গে করে যদি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে পারি তবে রমজান দেখে আমরা কিছু নির্বাচনের তফসিল দিতে পারি।’ তফসিল কবে হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যদি হয় তবে মার্চে হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ৪ শতাধিক ইউপি নির্বাচন-উপযোগী হবে। তবে সবকটিতে একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারব কিনা সন্দেহ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো রমজানে নির্বাচন করতে পারব না। আবার ভোটার তালিকা যদি প্রস্তুত না হয় তা হলেও নির্বাচন করতে পারব না। এ দুটি বিষয়ে যদি বাধা না হয় তবে যতগুলো পারব নির্বাচন করব।’ তিনি বলেন, ‘যদি রমজান এসে যায় এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে না পারি তবে (নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে) একটা বিধি আছে আমরা তার প্রয়োগ করব।’
এ বিষয়ে ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছিলেন, আগামী ২১ মার্চ বেশ কিছু ইউপির মেয়াদ শেষ হবে। তাই এর ৪৫ দিন আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার চিন্তা করা হচ্ছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট-ইভিএম দুই পদ্ধতিতেই ভোট গ্রহণ হবে। ইসির কর্মকর্তারাও বলেছিলেন, প্রথম ধাপের ভোট মার্চের মাঝামাঝি হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট মার্চের শেষে এবং এপ্রিলে তৃতীয় ধাপের ভোট হতে পারে। এ জন্য ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। এবার ব্যালট পেপারের পাশাপাশি উপজেলার সদর ইউপিগুলোয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। আইন অনুযায়ী ২১ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com