স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ০৯ মে ২০২১, ১০:০৩
ঈদযাত্রা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সব সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কোনো কোনো সড়কে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির নামে রাজধানী থেকে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসগুলো যাত্রী নিয়ে নানা দিকে ছুটে যাচ্ছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ঘাটে গিয়ে ভিড় করছে। এ পরিস্থিতিতে ফেরি পারাপারে মানুষের স্রোত ঠেকাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে পুলিশের সহযোগি হিসেবে মোতায়ন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (৮ মে) রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, বিজিবি সদস্যরা ঘাট এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে। কি পরিমান বিজিবি সদস্য মোতায়েন হবে তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে। রাতের বেলায় পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে। রবিবার ভোর থেকে বিজিবি সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।
এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, মাওয়া চৌরাস্তা ও শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখে পুলিশ চৌকি দেখা গেছে। এসব টহল চৌকি থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) হিলাল উদ্দিন বলেন, শিমুলিয়া ঘাটের এক কিলোমিটার দূর থেকে যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো যাত্রীকে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতদিন লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল আর আজ থেকে দিনের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধ ফলে কোনভাবেই নদী পার হতে পারবে না কেউ।
অপর দিকে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহণ চালু করে দিতে দাবি জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আজ শনিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে কয়েকটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো পারাপারের জন্য একটি ফেরি উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করতেই ঘাটে উপস্থিত শত শত মানুষ একযোগে ফেরিতে উঠে পড়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, সেই লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছাড়াই ফেরিটি কাঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এরপর থেকে আর কোনো ফেরি ঘাট থেকে না ছাড়লেও যাত্রীদের ভিড় কমছে না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়তেই থাকে। যাত্রীদের ধারনা, দিনের বেলা ফেরি না চললেও সন্ধ্যার পর ফেরি চলাচল শুরু হলে তখনই তারা ঘাট পার হবেন।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকাতেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এইখানেও হাজার হাজার মানুষের ভিড়। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও মিনি ট্রাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে ঘাটে নামছে। স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা ফেরি না ছাড়ার কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও যাত্রীরা ঘাট ছাড়ছে না। তারা সেখানেই অপেক্ষা করছে।

এদিকে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও বেশকিছু পিকআপ ঘাটে এসে ফেরি চলাচল না করার কারণে ঘুরে যমুনা সেতু দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর, জামালপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন যমুনা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছে। এ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই সড়কের কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনে সড়ক মহাসড়কে যানবাহনের এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী এলাকা থেকে ঘরমুখো মানুষ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও মিনি ট্রাকের যাত্রী হয়ে মানিকগঞ্জ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রা করেছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে বাবুবাজার ব্রিজ ও কাঁচপুর এলাকায়। একইভাবে রাজধানীর এই দুটি জায়গা দিয়েও লোকজন নানান উপায় ঢাকা ছাড়ছে।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com