স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১১ আগস্ট ২০২১, ১৩:৫৮
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দফায় দফায় বাড়ানো লকডাউন আজ বুধবার শিথিল হচ্ছে। শর্তসাপেক্ষে সবকিছু খুলে দেওয়া হলেও বন্ধই থাকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পর্যটন, বিনোদনকেন্দ্র ও গণজমায়েত। যদিও টানা ১৯ দিনের লকডাউনে করোনা সংক্রমণের মাত্রা কমেনি। গতকাল মঙ্গলবারই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। আর কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৬৪ জন। এর মধ্যেই জীবন-জীবিকার বাস্তবতায় কর্মচাঞ্চল্যপূর্ণ স্বাভাবিক যাত্রায় ফিরছে দেশ। তবে সব ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। থাকতে হবে সচেতন, সতর্ক।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা খোলা থাকবে মার্কেট-শপিংমল। একই সময় পর্যন্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও অর্ধেক আসন খালি রাখতে হবে। পুরোদমে চলবে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক। তবে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ম পাল্টেছে। কোনো এলাকার মোট পরিবহনের অর্ধেক একদিন রাস্তায় নামবে, বাকি অর্ধেক নামবে অন্যদিন। যাত্রী নেওয়া যাবে সব আসনেই। একইভাবে চলবে ট্রেনও।
করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণে দেশের পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। এর পরও সামগ্রিক বাস্তবতার নিরিখে টানা ১৯ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের সমাপ্তি টানতে হচ্ছে সরকারকে। এর আগে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করেই কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১৫ থেকে ২২ জুলাই ৯ দিন লকডাউন শিথিল করা হয়। ঈদের একদিন পর ২৩ জুলাই থেকে ফের লকডাউন শুরু হয়। এর মধ্যেই একদিনের ঘোষণায় ১ আগস্ট থেকে শিল্পকারখানা খুলে দেয় সরকার। পরিবহন বন্ধ থাকায় ফিরতে পথে শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে সমালোচনার মুখে দেড় দিনের জন্য বাস ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
গত রবিবারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সড়কপথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গত সোমবার বলেন, এটি মূলত আন্তঃজেলা বাসের জন্য। বাইরে থেকে কম সংখ্যক বাস যাতে আসে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শ্রমিক ইউনিয়নের মালিক-শ্রমিক যারা আছে তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। সোমবার রাতে এক নির্দেশনায় বিআরটিএ বলেছে, সরকার নির্ধারিত আগের ভাড়ায় গণপরিবহন চলবে। ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়ার নিয়ম আর কার্যকর থাকছে না। এ ছাড়া, বাসে দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সব আসন পূর্ণ করেই ট্রেন চলবে। অর্ধেক টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক স্টেশনের কাউন্টারে। আসন ফাঁকা না রাখলেও যাত্রীদের মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে রেলওয়ে। আজ থেকে ধারণক্ষমতার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে নৌযান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গতকাল এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আজ থেকে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। মার্কেট ও দোকানপাট খুললেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বেচাকেনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। গত ২৮ জুন থেকে আরোপিত বিধিনিষেধে বন্ধ হয়ে যায় মার্কেট ও দোকানপাট। এর মধ্যে ঈদের সময় বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে ছয় দিন দোকান খোলার সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘসময় ব্যবসা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় লোকসানের মুখে রয়েছেন।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com