shopner bd
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩২
×

রেমিট্যান্স প্রবাহে পতন ঠেকাতে বিদেশে বাড়ানো হবে ব্যাংকিং সেবা

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:১৭

রেমিট্যান্স প্রবাহে পতন ঠেকাতে বিদেশে বাড়ানো হবে ব্যাংকিং সেবা

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে অব্যাহত পতন ঠেকাতে বিদেশে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় দেশের ব্যাংকিং সেবা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব দেশে সরকারি ব্যাংকগুলোর শাখা বা এক্সচেঞ্জ হাউস আছে সেখানে আরও শাখা এবং উপশাখা খোলা হবে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে রেমিট্যান্স আহরণের জন্য বুথ খোলা হবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ানো হবে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংকগুলো যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো কাজ শুরু করেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গ্রুপ রেমিট্যান্স কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কাজ করছে। তারা রেমিট্যান্সের গতিবিধি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

যেসব দেশ বা অঞ্চল থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে, সেখানের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান, বেতন কাঠামো, ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিতে সমস্যা এবং হুন্ডিবাজদের তৎপরতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশগুলোতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। এর আলোকে কোন কোন এলাকায় বুথ বা উপশাখা খোলা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ হবে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকগুলোও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রায়ই ব্যাংকিং সেবার অপ্রতুলতার অভিযোগ করেন। সেজন্য উপশাখ ও বুথ বাড়ানো হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী শাখা (বিদেশি ব্যাংকের শাখা বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের হয়ে কিছু কাজ করে) রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ আছে। কিন্তু হিসাব খোলা ও ভাষাগত জটিলতার কারণে প্রবাসীরা এসব শাখার সেবা নিতে পারছে না। এ কারণে এসব শাখায় রেমিট্যান্স সেবা দিতে বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তা বসানো যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে। প্রতিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শাখার তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের শাখার সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকেরও অনেক প্রতিনিধিত্বকারী শাখা রয়েছে।

বিদেশে অনেক এক্সচেঞ্জ হাউজ গড়ে উঠেছে। এগুলোর মাধ্যমেও ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ইনকরপোরেটেডের (এসইসিআই) ২টি শাখা ও ৮টি বুথ দিয়ে প্রবাসীদের সেবা দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংক (ইউকে) লিমিটেড নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২টি শাখা রয়েছে। এগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহে ও দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে করা বিভিন্ন এলসির গ্যারান্টি বা এডভাইস দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে সোনালী ব্যাংকের ৪৬১টি প্রতিনিধিত্বকারী শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ২৬টি, যুক্তরাজ্যে ২৬টি, আমেরিকাতে ২০টি, সৌদি আরবে ১৬টি, মালয়েশিয়ায় ১২টি, কাতারে ৬টি, ওমানে ৪টি, বাহরাইনে ৩টি, কুয়েতে ৮টি, ভারতে ২১টি ও অন্যান্য দেশে বাকিগুলো।

জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক্সচেঞ্জ হাউজের ৪টি শাখা রয়েছে। ইতালিতে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির তিনটি শাখা, আমেরিকাতে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির একটি শাখা রয়েছে। তারা ৭৮টি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে।

অগ্রণী ব্যাংকের মালয়েশিয়াতে অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, সিঙ্গাপুরে অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ প্রাইভেট লিমিটেড, কানাডায় অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, অস্ট্রেলিয়ায় অগ্রণী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি রয়েছে। তাদের বিদেশে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৩৪৮টি।

রূপালী ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বকারী শাখা ৩৩৭টি। এসব প্রতিনিধিত্বকারী শাখা থেকে প্রবাসীরা দেশের রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। কিন্তু অ্যাকাউন্ট খোলা ও ভাষাগত জটিলতায় অনেকেই এ সেবা নিতে পারছেন না।

ইসলামী ব্যাংকের ৬১০টি প্রতিনিধিত্ব শাখা আছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে তাদের আইবিবিএল এক্সচেঞ্জ হাউজ রয়েছে।

আগে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণ করত সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংক। এখন তাদের সে অবস্থা নেই। মোট রেমিট্যান্সের ৭ শতাংশ আসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থান থেকে তারা চতুর্থ অবস্থানে চলে গেছে। এখন মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহরণ করে ইসলামী ব্যাংক। তাদের মাধ্যমে আসে ২৮ শতাংশ। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ১২ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংক তৃতীয় অবস্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ১০ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংক এশিয়ার অবস্থান পঞ্চম। তাদের মাধ্যমে ৫ শতাংশ আসে। জনতা ষষ্ঠ অবস্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ৪ শতাংশ। রূপালী ব্যাংক সপ্তম অবস্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ৩ শতাংশ। পূবালী ব্যাংক অষ্টম স্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ৩ শতাংশ। সাউথইস্ট ব্যাংক নবম স্থানে। তাদের মাধ্যমে আসে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ। দশম স্থানে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে ২৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ, যুক্তরাজ্য থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ আসে। এছাড়া কুয়েত থেকে সোয়া ৮ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ৬ শতাংশ এবং ওমান থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে।

গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২১ সালের একই সময়ে সৌদি আরব থেকে ১৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪১ শতাংশ, ওমান থেকে ৪০ শতাংশ, বাহরাইন থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, কুয়েত থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্য থেকে ১৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২০ শতাংশ, জাপান থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ৫২ শতাংশ, সিঙ্গাপুর থেকে ৪১ শতাংশ, অন্যান্য দেশ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ রেমিট্যান্স কমেছে। তবে যুক্তরাজ্য থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ, ইতালি থেকে ১৪ শতাংশ, জার্মানি থেকে ২৪ শতাংশ ও কাতার থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছিল। গত জুলাই থেকে টানা রেমিট্যান্স কমছে। গত ডিসেম্বরে কমেছে ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের বছরের একই মাসে বেড়েছিল ২১ দশমিক ২২ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।