shopner bd
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩২
×

ওয়াজেদ মিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:৩১

ওয়াজেদ মিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী।

এ উপলক্ষে বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সরিফা সালোয়া ডিনা, এডিসি শিক্ষা রায়হান শাহ্, পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল, ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মন্ডল মিলন, ড.এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছায়াদত হোসেন বকুল, এসিল্যান্ড খায়রুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ, বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স এসোসিয়েশন, রংপুর ইন্সষ্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ, রংপুর জেলা পুলিশ, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ, শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেসবাহুর রহমান, চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন, ভেন্ডবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম, পাচগাছি ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া, ভেন্ডবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে প্রয়াতের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাদ জোহর ‘জয়সদন’প্রাঙ্গণে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভায় ওয়াজেদ মিয়ার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা শেষে প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. রফিকুল ইসলাম ফারাজী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে মিয়া পরিবারে ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম সুধা মিয়া। তার বাবা আব্দুল কাদের মিয়া এবং মাতা ময়জুন্নেসা। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্ব কনিষ্ঠ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ জামাতা ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তার সমগ্র কর্মজীবনে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

তিনি ১৯৫৬ সালে রংপুর শহরের সরকারি জিলা স্কুল থেকে ডিস্টিংশনসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৬১-৬২ শিক্ষাবছরের জন্য হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগ দেন।

১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবছরে তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের ‘ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়’থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তাকে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকার আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে পদস্থ করা হয়।

তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকলেও তাকে কখনো ক্ষমতার মোহ স্পর্শ করতে পারেনি। এজন্যই তিনি নির্লোভ গণমানুষ হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন।

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আগেই তিনি স্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্যালিকা শেখ রেহানাকে নিয়ে বিদেশে চলে যান। এরপর তিনি দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।

তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং ঢাকার বৃহত্তম রংপুর কল্যাণ সমিতি, উত্তরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতি, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

উল্লেখ্য, ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যাসহ হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৯ মে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তাকে গ্রামের বাড়ি ফতেহপুরে মিয়াবাড়ীর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।