স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৫ মার্চ ২০২২, ১৩:২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সব অর্জনের মূলে থাকা ‘জয় বাংলা’কে তার সরকার জাতীয় স্লোগান ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে যে, বাঙালি মাথা নিচু করে নয় বরং উঁচু করেই চলবে।
সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক শ্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয় বাংলা উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটা আজ সবার হয়েছে। এই শ্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই- আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয় অর্জন করেছি, মাথা নত করে আমরা চলি না, মাথা নত করে চলব না, বিশ্ব দরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করেই চলবে।’
নিজের অন্যতম শক্তি ’৭৫ এর বিয়োগান্তক ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুজনেই আজকে সবচেয়ে বেশি খুশি। কারণ এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এদেশের মানুষকে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। যে স্লোগান দিয়ে এদেশের মানুষ রক্তের অক্ষরে লিখে গেছে-আমি বিজয় আনতে চাই। বাংলাদেশের জয় হবে। আজকে সেই জয় বাংলা আমাদের সবার, এদেশের মানুষের, বিজয়ী জাতির বাঙালি জাতির, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার এ স্লোগান।’
এই স্লোগান ধারণে সরকার প্রধান সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, কোনও ত্যাগ যে বৃথা যায় না আজকে সেটাই প্রমাণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিএবি চেয়ারম্যার মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) প্রদত্ত তার ঐতিহাসিক কালোত্তীর্ণ ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে। সেই থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্লোগানে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালির অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা হয়ে যায় ‘জয় বাংলা’।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নিয়েছিলেন।
একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট রায় দেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২ মার্চ ২০২২ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এক সময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল যেটা অত্যন্ত দু:খজনক। তবে, হ্যাঁ আমরা আওয়ামী লীগ যারা করি, আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা আমরা ধরে রেখেছি, যারা এদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযোদ্ধারা- তারা এটা ধরে রেখেছিল। বাধা এসেছে, অনেক সময় অনেক কটুক্তি -সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা এই সত্যটাকে ধরে রাখতে পেরেছিলাম বলেই আজকে এটা জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ ‘জয় বাংলা’ আমাদের মুক্তি সংগ্রামের স্লোগান। জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। জয় বাংলা আত্মত্যাগের স্লোগান। জয় বাংলা আমাদের অর্জনের স্লোগান। যে স্লোগানের মধ্য দিয়েই আমরা বিজয় অর্জন করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। যে মানুষগুলো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। জাতির পিতা যখন ৬ দফা দিলেন ঠিক তার আগেই ছাত্রলীগকে এই ‘জয় বাংলা’স্লোগানটাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সরকার প্রধান বলেন, ‘এর অন্তর্নিহিত অর্থ একটাই ছিল- সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে স্বাধীনতার চেতনাটাকে জাগ্রত করা এবং এই স্লোগানের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন। যার প্রতিটি পদক্ষেপ জাতির পিতা নিয়েছিলেন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে।’
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com