নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ এপ্রিল ২০২২, ১৬:৩৮
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন মো. শাহরিয়ার ভুইয়া ও মো. দবির উদ্দিন। অপরদিকে (দুদক)’র পক্ষে ছিলেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। অভিযোগ গঠনের শুনানিকালে সাহেদ নিজেকে নিরাপরাধ দাবি করেন। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে সাহেদের আইনজীবী মো. শাহরিয়ার ভুইয়া বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে রিভিশন করবো। যে মামলাটিতে শাহেদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। সে মামলাটিতে বলা হয়েছে রিজেন্ট ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল এজেন্সির একটা ব্যাংক একাউন্ডের কথা। যে একাউন্ডে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত হিসেবে সাহেদের নামে দেখানো হয়েছে।
এই আইনজীবী বলেন, আদালতে আমাদের বক্তব্য ছিল রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস লিমিটেডের শাহেদ কেউ নন। আমরা ফিরিস্তি যোগে বিজ্ঞ আদালতে কোম্পানী আইনের আর্টিকেল অব মেমোরেন্ডাম জমা দিয়েছি। আর্টিকেল অব মেমোরেন্ডামটি রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস লিমিডেটের। আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনস এ চারজনের নাম দেখা যায়। এদের মধ্যে একজন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, দুই, তিন ও চার নম্বর ডিরেক্টর। এই চারজনের একজনও আমার মক্কেল শাহেদ নন। সুতরাং আমরা বলার পরে বিজ্ঞ আদালত শুনেছেন। এরপর চার্জ গঠন করেছেন। এ মামলায় যথাযথভাবে চার্জ গঠন হয়নি। যথাযথভাবে প্রতিবেদন হলে আমরা ডিজচার্জ পেতাম। সুতরাং আমরা ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাব। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে।
ডিজচার্জের আবেদন করবেন কীনা এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, আমরা আবেদন করেছিলাম। আবেদনটি বিজ্ঞ আদালত না মঞ্জুর করেছেন। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন করবো। এ মামলার পরবর্তি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৯ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে দুদকের পিপি মাহমুদ হোসেন বলেন, আসামি সাহেদ দুদকের কাছে তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দেননি। অবৈধভাবে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন।
এর আগে ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর দুদক এক নোটিশে সাহেদকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলে। কিন্তু সাহেদ নির্ধারিত সময়ে তাঁর সম্পদের বিবরণী জমা দেননি। পরবর্তী সময়ে শাহেদকে আরও ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। তারপরও তিনি সম্পদের বিবরণী জমা দেননি। এমন প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধানের পর সাহেদের বিরুদ্ধে গত বছরের ১ জানুয়ারি মামলা করে দুদক।
রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই শাহেদকে অবৈধ অস্ত্রসহ সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র্যাব।
আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১৮ জুলাই সাহেদকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল ও মাদক উদ্ধার করে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ঢাকা মহানগরের ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।
এখন তিনি ঢাকার অদুরে কেরানীগঞ্জ কারাগারে আছেন।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com