স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:১৭
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে মার্কেটটির কাঁচা বাজারের প্রবেশমুখে থাকা হক বেকারি থেকে।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে মার্কেটের নতুন কাঁচাবাজার মালিক সমিতির অফিস সহকারী মুশফিকুর রহমান লিটন বলেন, রাত ৩টার দিকে নিরাপত্তাকর্মী এসে আমাকে জানান- হক বেকারি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখি আগুন ধরে গেছে। পরে অফিসে এসে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেই। কিন্তু তারা কল ধরে নাই। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেই। তারা বলে, আমরা তথ্য পেয়েছি। গাড়ি পাঠাচ্ছি। এর আধাঘন্টা পর দুইটা ছোট গাড়ি আসে। ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে যে পাঁচ-সাতটা গাড়ি এসেছে এটা আগে এলে ক্ষতি কম হতো।
বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে ধারণা করে মুশফিক বলেন, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হতে পারে। গাড়ি এলে আগুনটা হয় তো কম ছড়াতো। আর পানির সংকট ছিল।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অগ্নিনির্বাপণ সাহায্যকারী দলও। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে মার্কেটের প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেট ও কাঁচা বাজারে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৭০০-৮০০টি দোকান ছিল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রথমে হক বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মার্কেট বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস প্রথমে এসে ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এজন্য আগুন আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
কৃষি মার্কেটের কাপড়ের দোকানি মাহবুব হাসান বলেন, তার দোকানে লাখ পাঁচেক টাকার মালামাল ছিল। প্রথমে হক বেকারিতে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন ছড়িয়ে যায়। মার্কেটে ৫০০ এর বেশি দোকান পুড়েছে।
এদিকে রাতে মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। এর পরও কীভাবে আগুন লাগলো- এর কারণ খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হক বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু বেকারিতে ছিল না আগুন লাগার মতো কিছু। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার পরও মার্কেটে কেমন করে আগুন লাগে।
লিটন হাসান নামের কাপড়ের দোকানি বলেন, মার্কেটটিতে গ্যাসের কোনো সংযোগ ছিল না। রাতেও বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সংযোগ। তাহলে কীভাবে আগুন লাগলো? নাকি কেউ আগুন ধরিয়ে দিলো?
আব্দুল কাদির নামের আরেক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় মার্কেটে শর্টশার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আইপিএস থাকলে হতে পারে।
অপরদিকে সকালে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, কৃষি মার্কেটে কোনো ফায়ার সেফটি ছিল না। প্রাথমিক ফায়ার ফাইটিংয়ের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না।
তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়কে দোকান থাকায় ও মানুষের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়েছে। এখানে পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিল না। এই মার্কেটটি অনেকটা বঙ্গবাজার মার্কেটের মতো। দোকানের সামনেও দোকান ছিল।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com