shopner bd
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
×

কালিয়াকৈরে মেধাবী ছাত্র মাদক মামলায় কারাগারে, পুলিশের ষড়যন্ত্র দাবী মা-বাবার

  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২১, ১৯:০৪

সাগর আহম্মেদ, গাজীপুর

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিবি পরিচয়ে অন্য থানা এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রকে তোলে নিয়ে মাদক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানিয়ে গত দু-দিন ধরে তার মা-বাবা কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, কোচিং সেন্টারের দ্বন্দ্বে ষড়যন্ত্র করে পুলিশ সু-পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে।
 
গ্রেপ্তারকৃত মেধাবী ছাত্র হলো, কালিয়াকৈর উপজেলা বড়ইছুটি এলাকার শাজাহানের বড় ছেলে শহীদুল ইসলাম। এসময় তার সঙ্গে আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকার রুবেল ফকিরের ছেলে কলেজ ছাত্র শাওনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, শহীদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল থেকে এমএসসি করছে। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকার আজমত মোল্লার ভবনের ২য় তলা ভাড়া নিয়ে ইউনাইটেড কোচিং সেন্টার করে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই ইউনাইটেড কোচিং সেন্টারে হানা দেয় কালিয়াকৈর থানার এসআই আনিছুর রহমানসহ আরো কয়েকজন। সেখান থেকে ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক মেধাবীছাত্র শহীদুল ও শাওনকে আটক করে। 
 
কিন্তু বিষয়টি ওই বাড়ির মালিককেও জানানো হয়নি। বাড়ির মালিক আজমত মোল্লা জানান, পরের দিন সকালে গিয়ে অন্য ভাড়াটেদের কাছে শুনেছি, ডিবি পরিচয়ে তার ভবন থেকে ওই দুজনকে তোলে নেয়া হয়। এদিকে অন্য থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হলেও কালিয়াকৈর থানা এসআই আনিছুর রহমানের দাবী, ৯৬ পিচ বিয়ারসহ উপজেলার নন্দন পার্ক সংলগ্ন কনফিডেন্স সিএনজি পাম্পের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তুহিন ও সোহাগ নামে আরো দুজন পালিয়ে যায়। 
 
এ ঘটনায় এসআই আনিসুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে বুধবার কালিয়াকৈর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের নামে মামলা দায়ের করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল ও শাওনকে গাজীপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তোলে নিলেও মামলায় ঘটনাস্থল কালিয়াকৈর থানা এলাকা দেখালে নানা আলোচনা-সমালোচনা ঝড় বইছে। খবর পেয়ে মেধাবীছাত্র শহীদুলের মা ও বাবা গত বুধবার ও বৃস্পতিবার দুদিন ধরে কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে এসে সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানাচ্ছেন। 
 
এসময় তার মা মিসেস ঝর্ণা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে কোচিং সেন্টার তোলে নিতে পাশের মেধাসিড়ি কোচিং সেন্টার থেকে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিল। শুনেছি ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক নয়নের বাবা সাইফুল আলম ঢাকার মিরপুর-১৪ থানার এসআই। তাই ক্ষমতার দাপটে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুলিশ সু-পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে তার উজ্জল ভবিষৎ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
 
স্থানীয় আটাবহ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য লাল মিয়া জানান, ওই মাদক মামলার স্বাক্ষী জুয়েল রানার নামে কয়েকটি মামলা আছে। সে এখন দারগা আনিছের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। ওই পুলিশও তাকে জুয়েলকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করায় এবং এভাবে নিরিহ মানুষকে ফাঁসানো হয়।
    
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, মাদক বিক্রি করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই সিএনজি পাম্পের সামনে থেকে বিয়ারসহ তাদের আটক করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে আপনাদের ভুল বুঝানো হচ্ছে। তাদের আটক করেই ওই কোচিং সেন্টারে যান বলেও জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।