ঝালকাঠি প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৫৬
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ এ আগুনের ঘটনায় লঞ্চটির দুই মাস্টারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগের মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) নৌ-আদালতের বিচারক বিশেষ মহানগর হাকিম জয়নাব বেগম এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার এবং দ্বিতীয় মাস্টার মো. খলিলুর রহমান। এর আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। তবে তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রসিকিউটিং অফিসার বেল্লাল হোসাইন। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের কর্তব্যে অবহেলায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও কলংকজনক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি তারা। বরং, বিপদে লঞ্চ ছেড়ে পালিয়ে যান। উপরন্তু জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করেননি আসামিরা। অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজ তীরে ভেড়াননি তারা। তদুপরি চালু রাখেন। তাদের চরম অবহেলায় এই ট্র্যাজেডি ঘটে।
বেল্লাল হোসাইন বলেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ৪২টি তাজা প্রাণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই ন্যায়বিচার আবশ্যক। এজন্য অভিযুক্তদের জামিনের আপত্তি জানানো হচ্ছে।
আর আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, জামিন পেলে বিচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন অভিযুক্তরা। তারা কোথাও পালিয়ে যাবেন না। অন্যথায় পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর নৌ-আদালতে বিশেষ মেরিন আইনে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নৌ-অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান। আদালত তা আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- লঞ্চটির প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল আরাফ অ্যান্ড কোম্পানির চার মালিক মো. হামজালাল শেখ, মো. শামিম আহম্মেদ, মো. রাসেল আহাম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি। এছাড়া লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় মাস্টার মো. খলিলুর রহমান, ইনচার্জ চালক মো. মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে অভিযান-১০ বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা অতিক্রমের পর রাত ৩টার দিকে সেটির ইঞ্জিন রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে জীবন বাঁচাতে সুগন্ধা নদীর লঞ্চঘাটের আগে অনেকে নদীতে লাফ দেন। ততক্ষণে কেবিনসহ সবই পুড়ে যায়।
তবু মাস্টার-ড্রাইভাররা আগুন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেননি। এতে ৪২ যাত্রী মারা যান। আর প্রায় ১৫০ জন দগ্ধ হন। বর্তমানে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ বয়া, বালির বাক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিত ডিজেলবোঝাই অনেক ড্রাম ও রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ছিল।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com