কুমিল্লা প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ২০:০৮
বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি, বিপুল সম্পত্তির মালিক, খনাশ জ্বীনকে পাতিল বন্দিসহ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী করার প্রলোভনে কৌশলে বিভিন্ন সময়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত এক ‘জ্বীনের বাদশা’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দির উপজেলার গৌরিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই কথিত ‘জ্বীনের বাদশা’ নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুরে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মেজর সাকিব জানান, কথিত জ্বীনের বাদশা কোরআন শরীফ পড়তে না জানলেও আজগুবি সব মন্ত্র বলে ঝাড়ফুঁকের নাটক করতেন। আর বিভিন্ন মাটির পাতিল, প্রাণির হাড়গোড় ইত্যাদি বস্তু ব্যবহার করে নাটকীয় কায়দায় ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এতোদিন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বরিশালে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বানিয়েছেন প্রসাদসম একটি বাড়ি।
আবুল খায়ের নামে ভুক্তভোগী এক কৃষকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কথিত ‘জ্বীনের বাদশা’ জাকির নাকি আবুল খায়েরে মধ্যে এক অলৌকিক চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছু সাধনা করলে আবুল খায়ের হয়ে যেতে পারবেন অদৃশ্য জগতের মহা ক্ষমতার অধিকারী। তখন সে যা চাইবে তাই হবে। আর আবুল খায়ের ছেলে-মেয়েদের জীবন বাঁচানো ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্য জমানো অর্থ, জমি-জামা বিক্রি ও লোন করে ছয় মাসে বিভিন্ন ধাপে জাকিরের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আর বিভিন্ন ধাপে টাকা প্রাপ্তিতে জাকির পূর্ব পদ্ধতি অবলম্বন করে একে একে সবকটি জ্বীনকে পাতিল বন্ধ করে। তবে খায়েরের অলৌকিক শক্তি প্রাপ্তির অপেক্ষা শেষ হয় না।
খায়েরের বরাত দিয়ে মেজর সাকিব আরও জানান, অলৌকিক শক্তির অধিকারী করার জন্য জাকির তাকে একশটি নদীর পানিতে শুকর ও চিলের হৃদপিণ্ড দিয়ে সাধনা করতে বলেছে, যার জন্য প্রয়োজন আরও ২০ লাখ টাকা। টাকা সংগ্রহের কোনো পথ না পেয়ে খায়ের বিষয়টি তার বড়ো ছেলেকে জানায়। ছেলে বুঝতে পারেন বাবা ভয়ানক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
পরে ঘটনাটি র্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের জাকিরের বাসা থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মাটির পাতিল ও তাবিজ কবজ উদ্ধার করে র্যাব।
জাকিরের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর অজান্তে তার বড়ো মেয়েকে প্রভাবিত করে কাবিন ও সাক্ষী ছাড়াই বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মেজর সাকিব।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com