চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ২৯ মার্চ ২০২২, ১৭:৩৭
স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে নিজের ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে বরখাস্ত করা হয়েছে স্কুল শিক্ষিকা মোছা. শামসুন নাহারকে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে অসদাচরণের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়।
নিজের স্কুলের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে নিজের ১০ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে বাল্য বিয়ে দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুন নাহার। যা নিয়ে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার ঝড়। একজন শিক্ষিকার এহেন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন সচেতন মানুষ।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের বিলপাড়ার দিনমুজুর অসোক আলীর মেয়ে শারমীন খাতুন (১১) পাশ্ববর্তী বেগমপুর ইউনিয়নের বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। তার রোল নং-৩৮। গত ২০ মার্চ একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুনাহার তারই ছেলে স্থানীয় বেগমপুর যদুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণি পড়ুয়া আব্দুর রহমানের সাথে বিয়ে দেয়। প্রথম কয়েকদিন বিষয়টি জানাজানি না হলেও ঘটা করে বাল্য বর-বধূ শ্বশুর বাড়ী ছোটশলুয়া গ্রামে দশ বদ্দনে (বিয়ের পর ১০ দিন শ্বশুর বাড়িতে কাটানো) গেলে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষিকা কর্তৃক নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের সাথে নিজ বিদ্যালয়ের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রীর বিয়ে দেয়ার বিষয়টি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাল্য বিয়ের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। শিক্ষিকা নিজেও তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। অসদাচরণের জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম ভুইয়া বলেন, ‘অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। যার দায়িত্ব ছিল বাল্যবিবাহ বন্ধের, তিনি তা না করে উল্টো বাল্যবিবাহ দিয়েছেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

গত রবিবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, হাতে মেহেদীর রং নিয়ে ৫ম শ্রেণিতে ক্লাস করছে বাল্য বিবাহের শিকার স্কুলছাত্রী শারমিন খাতুন। বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে অপকটে স্বীকার করে বলে, ‘গত এক সপ্তাহে আগে ম্যাডামের ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে সে দশ বদ্দনে বাড়িতে এসে স্কুলে ক্লাস করছে।’
একই ক্লাসে শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে তখন ক্লাস নিচ্ছিল অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন নাহার। তার কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে স্কুল ছাত্রীর সাথে নিজের ছেলের বাল্যবিবাহ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার নিজ বাড়ির অবস্থা খুব ভাল না। বিশেষ করে তার মায়ের খুব শরীর খারাপ। মায়ের ইচ্ছা নাতি ছেলের বউ দেখার। মূলত মায়ের ইচ্ছা পূরণ করা জন্যই তিনি নিজের ছেলের সাথে তারই স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দিয়েছেন। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি।’
তবে বেগমপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও বেগমপুর ইউনিয়নের কাজি মফিজুল ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে এ বিয়ে পড়িয়েছেন।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com