নেত্রকোণা প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৪৯
ঢোলকলমি, দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই একটি পরিচিত নাম। তবে কালের বিবর্তনে চোখে পড়েনা ঢোলকলমি। গ্রামাঞ্চলে অনাদরে ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোলকলমি। মাত্র কয়েক বছর আগেও দেশের প্রায় প্রত্যেক এলাকায় রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ে, খাল-বিল ঢোবার সর্বত্রই চোখে পড়তো এ গাছ।
ঢোলকলমি (ইংরেজি: pink morning glory), (বৈজ্ঞানিক নাম: Ipomoea carnea) হচ্ছে কনভলভালাসি পরিবারের গুল্ম প্রজাতির। এর কাণ্ড দিয়ে কাগজ তৈরি হয়। এই উদ্ভিদের ঔষধিগুণ বিরাজমান। এই উদ্ভিদের ভেষজগুণ আছে।
সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তবে অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি গাছের ফুল যেকোন বয়সি বিনোদন প্রেমিদের দৃষ্টি কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির কিছুটা ফ্যানেল আকৃতির ফুলটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। আর একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে। মধুর জন্য ফুলে আবার কালো ভোমরাও আসে।
ঢোল কলমি গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়ে জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলের ন্যায় ক’বছর আগেও বিভিন্ন এলাকায় এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অনেক এলাকায় স্বল্প হলেও তা এখনও কালের স্বাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে।
গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা এটিকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোলকলমি জন্মে পাখি বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। এমনকি এর ফুলের মধু সংগ্রহ করতে ভোমরার আনাগোনাও চোখে পড়ে। গ্রামের শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।
ফসলের ক্ষেত, পুকুর ও বসতবাড়ির চারপাশে বেড়ার প্রধান উপকরণ হিসেবে এই ঢোল কলমির ব্যবহার হতো। কেউ কেউ কলমি গাছের সাথে নেট ও বাঁশের চটা ব্যবহার করে বেড়াকে শক্তিশালী করতো। ঢোল কলমির বীজ ও পাতায় তেতো স্বাদের সাদা কষ থাকায় এর পাতা গরু ছাগলে না খাওয়ায় বেড়া হিসেবে এটা ব্যবহারের চাহিদা বেশি ছিল।
ঢোলকলমি খরা ও বন্যায় সহনীয় বলে প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। সহজেই আবার কলমি গাছ মারা যায় না, খাল বিল ডোবা এবং খোলামেলা পরিবেশে এ গাছ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে। তবে বর্তমানে কলমি গাছের সংকটে এর ব্যবহার আর তেমন চোখে পড়ে না।
সচেতন মহলের মতামত, ঢোলকলমি খুবই উপকারী গাছ। নদীতীর, খালপাড়ের মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখা, ভূমিক্ষয় রোধ, ভাঙনরোধে ঢোলকলমি গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢোলকলমি ফুল সারা বছরই ফোটে। তবে বর্ষার শেষ ভাগ থেকে শরৎ-শীতে প্রস্ফুটন বেশি হয়ে থাকে। এই ঢোল কলমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নদীর তীর ভাঙন রক্ষা করে। এমনকি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে বেশি পরিচিত এই ঢোল কলমি গাছ। তবে নানা কারণে এখন আর তেমন ঢোলকলমি গাছ চোখে পড়ে না।
তাদের মতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মূল্যবান এ উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সকলেরই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com