shopner bd
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩২
×

ঘাটাইলে কাজ শেষ না করেই এডিবির ৪৬ লাখ টাকা উত্তোলন

  নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫

.

ঘাটাইলে কাজ শেষ না করেই এডিবির ৪৬ লাখ টাকা উত্তোলন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমাদুল হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক আমিনুল ইসলাম ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও টেন্ডার বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এতে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিধি অনুযায়ী কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান কিংবা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। বরং কোটেশনের মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, পুরো অর্থ লেনদেনের সমন্বয় করেছেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক আমিনুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত। ইউএনওর তত্ত্বাবধানে প্রকৌশল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্ত্রীদের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ বিতরণ করা হয়।


স্থানীরা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটোকপি মেশিন অপারেটর উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তারের মালিকানাধীন মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্স এবং উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী বিথী আক্তারের মালিকানাধীন মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজ-এর নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রকৌশলী বিভাগে পিয়ন রাকিবুলের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামেও প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ, দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং কয়েকটি এলাকায় নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে গত অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন কতটা বিধিসম্মত- তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদারেরা অভিযোগ করেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে এবং কোনো ধরনের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়েও আমিনুলকে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অশিকার করে ঘটনা এড়িয়ে যান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। দুর্নীতির অভিযোগের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যস্ত রয়েছি বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ঘাটাইল ইউএনও কার্যালয়ের ফটোকপি মেশিন অপারেটর উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান তানহা এন্টারপ্রাইজকে দুটি রাস্তা নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। তবে এসব কাজের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।