shopner bd
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
×

নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ আর নেই

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ০৩ জুন ২০১৯, ১২:১০

ভাষাসংগ্রামী, নাট্যকার, অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ আর নেই। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক। দেশের এই গুণী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও বিশিষ্টজনরা শোক প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে মদিনা মসজিদে গতকাল বাদ এশা মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াতের ভাগ্নে শাহরিয়ার মাহমুদ প্রিন্স জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে নেওয়া হবে। সেখানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হবে। মমতাজউদদীন আহমদ অ্যাজমাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত ১২ মে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে ১৬ মে আবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন চিকিৎসকরা। ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজউদদীন আহমদ। রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়ার সময়ই রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ভাষার দাবিতে আন্দোলন সংগঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজের মুসলিম হোস্টেলে ইট ও কাদামাটি দিয়ে যে শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল তাতে মমতাজউদদীনও ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি জেলও খেটেছেন একাধিকবার। কর্মজীবনে মমতাজউদদীন আহমদ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটিতে একজন উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি। টেলিভিশন নাটকে সাবলীল অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মমতাজউদ্দীন আহমদ। এ দেশের মঞ্চনাটকে পরিপূর্ণতা আনয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তাঁর রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপারস্যাপার’ ইত্যাদি। তাঁর লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ ও ‘রাজার অনুস্বারের পালা’ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল থিয়েটার (আরামবাগ) দেশের প্রধান নাট্য দলগুলোর অন্যতম। তাঁর লেখা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘নীলদর্পণ’ (সম্পাদনা) ও ‘সিরাজ উদ দৌলা’ (সম্পাদনা)। নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য মমতাজউদদীন আহমদ একুশে পদক পান ১৯৯৭ সালে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন নাট্যকর্মী থেকে শুরু করে দেশের মানুষের ভালোবাসা। গত জানুয়ারিতে ৮৫তম জন্মদিনে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।