shopner bd
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩২
×

সৌদি আরবে চার বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ২৭ আগস্ট ২০২১, ১৬:৫৪

সৌদি আরবে চার বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি
১ লাখ কোটি ডলার মূল্যের নতুন প্রকল্প গড়ে তুলছে সৌদি আরব। রাজধানী রিয়াদের একটি দৃশ্য ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ সৌদি আরব। জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মজুদে দেশটির অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। মরুময় দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিও ছিল এ তেল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নেয়া উদ্যোগগুলো জ্বালানি তেলের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে বিকল্প পথে হাঁটা শুরু করে আরব দেশগুলো। অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ করে তুলতে ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এরই অংশ হিসেবে গত চার বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিশন-২০৩০ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ লাখ কোটি ডলার মূল্যের নতুন প্রকল্প গড়ে তুলছে সৌদি আরব। গত চার বছরে এ প্রকল্প ৫ লাখ ৫৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী দশকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো দেশটির বেসরকারি খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি সংস্থাটি সৌদিদের বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের হার কমিয়ে আনারও লক্ষ্য নিয়েছে।

জ্বালানি তেল রফতানির আয় দিয়ে দেশটি লোহিত সাগরের উপকূলে গড়ে তুলছে নিঅম শহর। সৌদি আরব এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে। কার্বনমুক্ত ডিজিটাল এ শহর তৈরিতে ৫০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তেল রফতানির আয় দেশটির রিয়াদ, জেদ্দা ও অন্য শহরগুলো উন্নত করতেও সহায়তা করছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য উদ্ধৃতি দিয়ে বৈশ্বিক সম্পত্তিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্র্যাংকের মধ্যপ্রাচ্যের গবেষণা প্রধান ফয়সাল দুররানি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি আরবজুড়ে ৫ লাখ ৫৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আরো ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে সৌদি আরবে নতুন আধা-সরকারি সত্তার উদ্ভব হয়েছে। নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে দেশটিতে কার্যক্রম চালু করার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান চাহিদাও রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ লাইসেন্স ইস্যু করার উত্থানও এ প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরে। ২০১৮ সালে প্রায় ৭০০ থেকে দেশটিতে বিনিয়োগের সংখ্যা গত বছর ১ হাজার ৩০০ হয়েছে। এ প্রবণতা চাকরির বাজারের জন্যও ভালো সুযোগ।

সৌদি আরবের জাতীয় বেকারত্বের হার চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এ হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২০ সালের শেষ দিকেও দেশটির বেকারত্ব হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল।

নাইট ফ্র্যাংকের মতে, মোট ব্যয়ের প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে নতুন যাত্রীবাহী রেল নেটওয়ার্ক এবং রিয়াদের জন্য একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড অনুসারে, কেবল প্রমোদতরী ভ্রমণ খাতই জাতীয়ভাবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক ভ্রমণকারী দেড় লাখে উন্নীত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১৩ লাখের বেশি নতুন বাড়ি, ৩০ লাখ বর্গমিটারেরও বেশি অফিস এবং এক লাখেরও বেশি হোটেল কক্ষ তৈরিতে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। এর বেশির ভাগই যুক্ত হবে লোহিত সাগর উপকূলে নিঅম প্রকল্পে।

এদিকে রাজধানীতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার হাউজিং ইউনিটসহ ২ হাজার কোটি ডলারের দিরিয়াহ গেট, ১২ হাজার ইউনিটসহ ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের কিং সালমান পার্ক এবং কিদ্দিয়াহ নামে ৮০০ কোটি ডলারের মেগা বিনোদন প্রকল্প।

এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে নাগরিকদের বাড়ির মালিকানা ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার ওপর জোর দিচ্ছে সৌদি আরব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।