স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২২, ১৮:৪৭
‘তোমার দেখা নাইরে, তোমার দেখা নাই...।’ নিউমার্কেটের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ফুটপাতের এক পোশাক বিক্রেতার গলায় ভারতীয় বাংলা ব্যান্ডের এই জনপ্রিয় গানের কয়েকটি কলি শুনতেই থামতে হল। তবে তার গলায় এই গান আনন্দের নয়, হতাশার!
করোনার কারণে গত প্রয় দুই বছর স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। ধীরে ধীরে সেই মহামারি পরিস্থিতি কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বটে, তবে ক্রেতা-বিক্রেতা কারোর মনেই নেই আগের উন্মাদনা, নেই কেনাকাটার সেই আনন্দ।
কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের সবচেয়ে বড় জমায়েত হয় নিউমার্কেট চত্বরে। বছর ভরই পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে সেখানে। যদিও ঈদের সময় চিত্রটা একটু আলাদা। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, মারক্যুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট- সর্বত্রই বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করে।
সে অর্থে এ বছর নিউমার্কেট চত্বর কার্যত খাঁ খাঁ চেহারা নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে করোনার আগে যে পরিমাণ বাংলাদেশি পর্যটকের উপস্থিতি ছিল, এবার তা ‘চার ভাগের এক ভাগ’-এ এসে ঠেকেছে। স্থানীয় হোটেল, গেস্ট হাউজ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পোশাক বিক্রেতা, চুড়িমালা সকলেই কার্যত হাপিত্যেশ করে বসে আছেন ক্রেতার আশায়।
দেখতে দেখতে ২০ রোজা পার হয়ে গেছে, কিন্তু বাকি রোজায় বাংলাদেশিরা এসে ভরিয়ে দেবেন- এমন ভরসা কেউই করতে পারছে না। যদিও উপরওয়ালার ওপরে কারও কারও এখনো এখনও অটুট ভরসা।
একটি গেস্ট হাউসের মালিক সাঈদ রায়নাদি জানান, এবারে বাংলাদেশি পর্যটক খুবই কম। অন্যান্যবার প্রথম রোজা থেকে কুড়ি রোজা পর্যন্ত অনেক ভিড় থাকে। তবে যেহেতু টুরিস্ট ভিসা চালু হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন এবং আগামী দিনে বাজারও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিউমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা ইশতেখার আলী বলেন, ‘আমাদের কেনাবেচা মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের উপরই নির্ভরশীল। ওরা এখানে আসলে প্রচুর পরিমাণে জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যান। ফলে তখন মনে হত যে ঈদের বাজার সত্যিই শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এবছর বিক্রি-বাট্টা একেবারেই নেই। বাংলাদেশি পর্যটকরা এখনো সেভাবে আসছে না।
একে পর্যটকদের খরা, তার ওপর অন্যবারের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম এবার বেশ খানিকটা বেশি হওয়ার কারণে অসুবিধায় ব্যবসায়ীরা। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে নামমাত্র আসা পর্যটকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিউমার্কেটের একটি হোটেলে অবস্থান করা ঢাকার বাসিন্দা এস. এম. সাইদুল ইসলাম নামে এক পর্যটক বলেন, আগে যে দামে জিনিসপত্র কিনেছি, এখন সেই জিনিসের দাম প্রায় তিনগুণ বেশি। কোন কিছুতেই হাত দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে যে জিনিস দশ টাকা এখানে তার দাম বিশ রুপি। আসলে ঈদের আগে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসেন মূলত শপিং করতে। কারণ তাদের আশা থেকে এখানে কম দামে ভাল পণ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু এখানে এসে দেখা যায় জিনিসের মান খারাপ, দামও বেশি।
একই অভিযোগের সুর বাংলাদেশি পর্যটক ঝুমার গলাতেও। তিনি বলেন, আসলে বাংলাদেশের তুলনায় এখানকার পণ্যের গুণগত মান ভাল থাকায় এখানে কেনাকাটা করতে আসা। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার পণ্যের দাম অনেক বেশি।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com