
কুমিল্লা জেলার গঙ্গামন্ডল এলাকার অন্যতম কৃতি সন্তান অলুয়া ভুঁইয়া বাড়ীর মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল খালেক ভুঁইয়া। একজন স্বনামধন্য সরকারী কর্মকর্তা, আদর্শ শিক্ষক, সফল সমাজ সেবক ও অভিভাবক।
১৯৩৫ সালে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গামন্ডল রাজ ইনষ্টিটিউশন হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করেন। মেট্রিক পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। আইএ পাস করার পরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করার জন্য কলকাতা_বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন ১৯৩৯ সালে। অতঃপর কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং (সচিবালয়ে) চাকুরিতে যোগদান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে উনায় মায়ের টেলিগ্রামে/ আহব্বানে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি চলে আসেন। এখানে একটি কথা না বললে না হয়, উনার একনিষ্ঠ (বন্ধু) মরহুমঃ আলহাজ্ব মোঃ শহিদুল্লাহ (সোনা মিয়া) একসাথে কল কাতা রাইটার্স বিল্ডিং (সচিবালয়ে) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চাকুরিতে ছিলেন। দুইজনেই অত্যন্ত ধর্মভীরু ও ধার্মিক ছিলেন। আমাদের কুমিল্লার প্রানপুরুষ মৌলভি মফিজউদ্দিন আহমেদ (শিক্ষা মন্ত্রী) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা সচিব ছিলেন। উনার সাহচর্য তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।
একদিন সোনামিয়া সাহেব হঠাৎ খালেক সাহেবকে বললেন চলেন পূর্ববঙ্গে স্কুল করি, জনাব সোনা মিয়া সাহেব আগে গঙ্গামন্ডল হাইস্কুলে যোগ দেন, পরবর্তীতে আব্দুল খলেক ভূইয়া সাহেব যোগদান করেন। (সংগৃহীত)।
তৎকালিন সময়ে অবিভক্ত #সাহেবাবাদ_ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। একজন সফল সমাজ সেবক, সমাজের অভিভাক ও এলাকার ন্যায়বিচারক হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন। বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতেন ও সালিশে সকলের মধ্যমণি থাকতেন। মানুষ আজো ভুলেনি ভুঁইয়া সাহেবকে।
কুমিল্লার গোমতি_নদীর বাধ নির্মাণ কমিটির অন্যতম সদস্য সচিব ছিলেন। সভাপতি ছিলেন আরেক সিংহ পুরুষ বেজুড়া গ্রামের মরহুম তফাজ্বল হোসেন ভুইয়া। তৎকালীন সময়ে বাধ না থাকায় বন্যাজলে সব তলিয়ে নিত। উক্ত কমিটি বাধ নির্মানে কুমিল্লার প্রখ্যাত আইনজিবী_ধীরেন্দ্রনাথের মাধ্যমে পাকিস্হান সরকারের পানি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্বে মামলা রুজু করে জনতার অধিকার আদায় করেন।
উল্লেখ্য আমাদের আজকের মালাপাড়া ইউনিয়নের সীমানায় যে গোমতী বেড়িবাঁধ, এটা নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়ে ছিল। একটি মহল চেয়েছিল আমাদের ইউনিয়নে অনেক অংশ নদীর ভিতরে দেয়ার জন্য। ভুঁইয়া সাহেবের বিচক্ষণতা ও সকলকে সাথে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানে আজকের গোমতীর বেড়িবাঁধ।
শিক্ষকতা জীবন,
একজন আদর্শ সফল শিক্ষক। চল্লিশ শতক থেকে আশির দশকের প্রথম পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের গঙ্গামন্ডল হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। অত্যন্ত বিচক্ষণ, বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। আজকের দিনে এমন শিক্ষক চোখে পড়েনা। বিনামূল্যে ও ফ্রিতে অনেককে পাঠাদান করেছেন। চলাফেরায় ছিল একজন হক্কানী আলেমের মতো ও কোরআন হাদীসের জ্ঞান ছিল বিশাল। গ্রামের লোকদেরকে খুবই ভালবাসেন ও সকলে ভুঁইয়া সাহেবকে সম্মান করতেন। মানুষের প্রতি ছিল অন্যরকম ভালবাসা ও আদর। চলাফেরায় ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও নরম মনের মানুষ। চমৎকার সুুন্দর হাসি দিয়ে কথা বলতেন।
ভুঁইয়া সাহেব যেহেতু ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন, তাই নিজ গ্রাম ও অন্যান্য গ্রামের সামাজিক লোকদের নিয়ে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠাতা করেন অলুয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। মৃত্যর পূর্ব পর্যন্ত এই মাদ্রাসার পরিচালনায় ও সামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে এই মাদ্রাসা ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান।
অলুয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা কালে সকল গ্রামের লোকজনের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশেষকরে দাতা_সদস্য হিসেবে যারা ছিলেন ও পরবর্তীতে দাতা সদস্য এড হয়েছেন যেমনঃ
মরহুমঃ আকামত আলী ভুঁইয়া
মরহুমঃ সোরত আলী ভুঁইয়া
মরহুমঃ জুনাব আলী ভুঁইয়া
মরহুমঃ রফিজ উদ্দীন ভুঁইয়া
মরহুমঃ হাজী আলী আহম্মদ
জনাব লতিফ মুহুরীর বাবা (পূর্ব চন্ডিপুর)
আলহাজ্ব আব্দুল মালেক ভুঁইয়া
মরহুমঃ আলহাজ্ব ফাতেমা বেগম
আলহাজ্ব অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া
জনাব ভুঁইয়া সাহেব, ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানের জনক ছিলেন। আলহাজ্ব অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ও মরহুমা আলহাজ্ব ফাতেমা বেগম। জয়নাল হাজী, তার বাবার শেখানো রাস্তা ও সামাজিক কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। আর, ভুইয়া সাহেবের মরহুম কন্যার ছেলেরা সু শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের উচ্চপদস্থ চাকুরীতে নিয়োজিত। ভুঁইয়া পরিবারের সকলেই বিভিন্ন কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত ও করে যাচ্ছেন।
২০০১ সালের অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে ইন্তেকাল করেন। জানাজার শুরুর ঘন্টা খানেক আগেই তার সোনালী কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন সামাজিক, শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিগণ। মানুষ মানুষের জন্য। মানুষ বাচে কর্ম বয়সের মধ্যে নহে। ভুঁইয়া সাহেব উনার মহৎ কর্মের দ্বারা বেচেঁ থাকবেন চিরকাল। উনার জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদেরকেও মানব কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি ভুঁইয়া সাহেবের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।