shopner bd
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
×

‘বঙ্গবন্ধুই সর্বপ্রথম বাঙালিদের আত্মপরিচয়ে পরিচিত হতে শিখিয়েছিলেন’

  সৌদি আরব প্রতিনিধি ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৫৬

ভার্চুয়াল আলোচনা সভা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবর্তে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

বিদ্যালয়ের বোর্ড ডাইরেক্টর্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ কাউন্সেলর মো. মেহেদী হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের রিয়াদ প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আবদুস সালাম, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সভাপতি ন্যানো বিজ্ঞানী ড. রেজাউল করিম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক পরিষদের সহসভাপতি ও বিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শামীম আবেদীন,  ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, বিদ্যালয়ের বোর্ড অবডাইরেক্টর্সের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডাইক্টের মো. আবদুল হাকিম, এসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার গোফরান ও কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হকসহ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক খাদেমুল ইসলামে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও অনুবাদ করেন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফেজ ইব্রাহিম মুশফিক। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সারাহ কবির ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহিয়া জামান। শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদ সভায় অংশ গ্রহণকারী সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অনেক দেশেরই স্বাধীনতা দিবস থাকলে সবার বিজয় দিবস নেই। আমরাই পৃথিবীর একমাত্র অনন্য জাতি, যারা হানাদারের বিপক্ষে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হানাদারদের পরজিত করে লাল সবুজের পতাকা অর্জন করে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিবাসী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। এবারের ১৬ ডিসেম্বর বিশেষ তাৎপর্যবহ। আজকের এই দিনে বিজয়ের অর্ধশতক পূর্ণ করার সূচনায় অগ্রসরমান। এই বছরের আরো বিশেষত্ব হলো আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতার জন্ম শতকও এই বছরে। যে চার মূলনীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল অদম্য বাঙালি জাতি গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বের প্রতিযোগিতায়। অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে যদিও বন্ধুর পথে অগ্রসর হতে হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা উন্নয়নকে বহুভাবে ব্যহত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল বারবার। যা এখনো বন্ধ হয়নি। তবু আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির দৃঢ় প্রত্যয়ে অর্থনৈতিক সূচকে বহুদূর অগ্রসর হতে সক্ষম হয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের সারিতে উত্তীর্ণ হতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সকল শহিদদের, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, সকল বীরঙ্গনাদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা আমাদের সুন্দর একটা মানচিত্র উপহার দিয়েছেন, তাদের এই ঋণ পরিশোধ যোগ্য নয়। 

অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেনও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মহানায়ক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, তার জন্ম না হলো আমাদের আরো কতকাল পরাধীনতার গ্লানি পোহাতে হত তা বলা যায় না। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। 

সভায় সকল আলোচকবৃন্দ মহান মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য গৌরবগাঁথার ইতিবৃত্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন। যা প্রবাসের মাটিতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

আলোচকরা আরো বলেন, আমাদের দেশ বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে সমান তালে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে, সে উন্নয়নকে ব্যহত করতে একটা চক্র এখনো সক্রিয় আছে। সে চক্রের পূর্বসূরীরাই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদের সহযোগিতা করেছিল। ৭৫ এ জাতির পিতাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করেছিল। তারাই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। আমাদের সবাইকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ কাউন্সেলর মো. মেহেদী হাসান বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেরা সেরা নেতাদের পেছনে ফেলে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির খেতাব অর্জন করেছিলেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। বাঙালি সম্প্রদায় মিশ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা ছিল বেশ কোমল প্রকৃতির। তাদের অঞ্চলে বেশ ভালো ফসল জন্মাত বলে বাইরে যাবার প্রয়োজন হত না। আন্দোলন সংগ্রামেও ছিল বেশ অনীহা। সেই দুর্বলচিত্তের মানুষদের সর্বপ্রথম আত্মপরিচয়ে পরিচিত হতে শিখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি কলিকাতা মুসলিম কলেজের ছাত্র হিসেবেই পিসিএস কর্মকর্তা হবার সুযোগ গ্রহণ সমগ্র বাঙালি জাতির মুক্তির কথা ভেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দেশের স্বাধীনতার মহানায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ শিক্ষণীয় উপকরণ। 

পরিশেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহিদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।