আরব আমিরাতে চাকরি পেতে প্রবাসীদের করণীয় কী?

বাংলাদেশে জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মানুষের কর্মসংস্থানের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র বাড়ছে না। জীবিকাও থেমে থাকার নয়। ফলস্বরূপ, জীবিকার তাগিদে দেশের অনেক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি পাড়ি জমায়। বাংলাদেশিদের ব্যবসা, কাজ করা ও থাকার প্রচুর সুযোগ রয়েছে সেখানে।
এখন আসল কথায় যাওয়া যাক, একজন প্রবাসী আরব আমিরাতে কীভাবে চাকরি বা কাজ পেতে পারে? চলুন জেনে নেয়া যাক-
কাজের অনুমতিপত্র
এ জন্য প্রথমে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বা কাজের অনুমতিপত্র পেতে হয়, যা ওই দেশের লেবার ডিপার্টমেন্ট থেকে সরবার করা হয়। যে কোম্পানি শ্রমিক নিযুক্ত করে, সেই কোম্পানি এটি প্রথমে দিয়ে দেয়, যেটি পরবর্তীকালে রেসিডেন্সি ভিসায় রূপান্তরিত হয়। ‘ওয়ার্ক পারমিট’টির সরবরাহের সময় থেকে দুই মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকে।
মুদ্রাঙ্কিত ভিসা ও পাসপোর্ট বন্দোবস্ত
নিয়োজিত ব্যক্তি দেশটিতে প্রবেশ করার ৬০ দিনের মধ্যে মেডিক্যাল টেস্টিং, আমিরাতের আইডি কার্ড, লেবার কার্ড এবং ওই দেশের মুদ্রাঙ্কিত ভিসা ও পাসপোর্ট বন্দোবস্ত করা হয়। নিয়োগকারী কোম্পানি বন্দোবস্তের কাজটি করে। রেসিডেন্সি ভিসা পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি তার পরিবারের মানুষজনকে দেশটিতে নিয়ে যেতে পারেন।
ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে
যদি কেউ ভ্রমণ ভিসায় যায়, তাহলে সাধারণত ওয়ার্ক পারমিট পায় না। কিন্তু আরব আমিরাত ত্যাগ করে বাহিরের কোনও দেশ বা নিজের দেশে এসে ওয়ার্ক পারমিট এর ব্যবস্থা করা যায়।
‘চেইঞ্জড স্ট্যাটাস’ প্রসেস
কোম্পানির জন্য অন্য উপায়ও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী আরব আমিরাতের বাহিরে না গিয়ে ‘চেইঞ্জড স্ট্যাটাস’ প্রসেসের মাধ্যমেও তার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বের করতে পারবে। প্রক্রিয়াটি করতে হয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আরব আমিরাতের যেখানে অবস্থিত, সেখানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি এন্ড ফরেইন অ্যাফেয়ার্স (জিডিএফআরএ) এর দ্বারা।
এবার জেনে নেয়া যাক, ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্ট লাগে-
★ সাদা পশ্চাৎপদসহ এক কপি রঙ্গিন ছবি।
★ পাসপোর্টের একটি কপি, যেটির মেয়াদকাল কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে হবে।
★ যদি কোনও একাডেমিক শিক্ষাগত সনদ থাকে, তবে তার একটি কপি জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি এন্ড ফরেইন অ্যাফেয়ার্স এর দ্বারা অথেনটিকেটেড করিয়ে নিতে হবে।
★ কোনও ফিজিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট, নার্স বা টিচার এর থেকে একটি সমর্থনপত্র লাগবে।
★ আবেদনকারীর বয়স ১৮ এর নিচে হলে চলবে না।
★ শিক্ষাগত সনদ কোম্পানির কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
উপরোক্ত সব শর্ত পরিপূর্ণ হলে এক সপ্তাহ বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যাবে।
শ্রম চুক্তি অনুযায়ী, প্রবাসী কর্মচারীদের রেসিডেন্সি ভিসা এক বা দুই বছরের জন্য নিবন্ধন করা হয়। যদি কর্মচারীর কাজের দক্ষতা ভালো লেগে থাকে, যদি কোম্পানি কর্মচারীকে রাখতে চায়, তবে ভিসা নতুন করে নিবন্ধন করা হয়।
মেডিক্যাল ফিটনেস
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে আমিরাতের সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়।
আমিরাত আইডি
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে এটি একান্ত প্রয়োজনীয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পাসপোর্ট এবং ভিসার সঙ্গে সংযুক্ত।
এসব কিছু হয়ে গেলে, শুধু ওয়ার্ক পারমিটের জন্য অপেক্ষা করার পালা। এবং এটি ৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগকারীর কাছে থেকে নেওয়া যাবে।
সূত্র: গালফ নিউজ
(অনুবাদ করেছেন নিশি আক্তার, শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)