লেবাননে আটকা ৪০ হাজার বাংলাদেশি

লেবাননে ৪০ হাজারের মতো বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও বিপুল অংকের জরিমানার কারণে তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
লেবাননের আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থান করা কর্মীরা দেশে ফিরতে চাইলে প্রতি বছরের জন্য পুরুষদের ২৬৭ ডলার এবং নারী কর্মীদের ২০০ ডলার জরিমানা দিতে হয়। সেই সঙ্গে বিমান ভাড়ার অর্থও ওই কর্মীকে বহন করতে হয়। সে হিসেবে একজন কর্মী যদি পাঁচ বছর অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করেন, তাকে দেশে ফিরতে হলে জরিমানা বাবদ ১ হাজার ৩৩৫ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা) পরিশোধের পাশাপাশি বিমান ভাড়াও জোগাড় করতে হয়। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অর্থ জোগাড় করা প্রায়ই অসম্ভব।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গত অক্টোবরে পদত্যাগে বাধ্য হন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। আর্থিক সংকট মোকাবেলায় ব্যয় সংকোচনের নীতিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে দেশটি। যার ধারাবাহিকতায় বেতনভাতা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকদের। এ অবস্থায় লেবানন থেকে দেশে ফিরতে চাইলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধের ব্যর্থতায় আটকা পড়েছেন অন্তত ৪০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি।
লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, লেবানন থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে যাওয়ার কারণ মূলত দেশটির আর্থিক মন্দা। এটি শুধু বাংলাদেশিদের সংকট নয়, এটা লেবানিজদেরও সংকট। আর এ আর্থিক মন্দায় কর্মী ছাঁটাই হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা বৈধ আছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের সংখ্যাটা খুবই কম।
বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, শ্রমবাজারে অস্থিরতা দূর করতে হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের (দালাল) থামাতে হবে। কারণ কাজ না থাকার পরও শ্রমবাজারে কর্মী পাঠায় তারা। যে টাকা দেবেন বলে কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি হয়, সেটি দেন না তারা। যে কারণে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শ্রমবাজারে এমন ঘটনা কমাতে হলে দেশের অভ্যন্তরে দক্ষ মানবসম্পদ প্রস্তুত করার কোনও বিকল্প নেই। এটা করতে পারলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।