সিঙ্গাপুরে করোনায় সংক্রমিত বাংলাদেশীর শরীরে ওষুধ কাজ করছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে এক বাংলাদেশীর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। তার শরীরে কোনো ওষুধ কাজ করছে না। গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ফোন করে এ কথা জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ওআইসির সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালেই সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। তিনি জানালেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চারজন বাংলাদেশীর মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তার বয়স ৩৯ বছর।
তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই অন্যান্য রোগের জটিলতায়ও ভুগছিলেন। এর মধ্যে তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৩ দিন ধরে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা এ রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
গোপনীয়তার কারণে এ বাংলাদেশীর নাম প্রকাশ করা যাবে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল থেকে তার শরীরে কোনো ওষুধ কাজ করছে না। তাকে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য যা করা যায়, সিঙ্গাপুর তা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুধু তিনি নন, সেখানে যেসব বাংলাদেশী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের সবার চিকিৎসা খরচ সিঙ্গাপুর বহন করবে।
চীন থেকে ১৭১ বাংলাদেশী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীন তাদের খাবার-পানি থেকে শুরু করে সব জিনিস সরবরাহ করছে। এখন আর বাংলাদেশীদের কোনো অভিযোগ নেই। চীন মনে করে তাদের আরো কিছুদিন রাখলে কোয়ারান্টাইন ঠিকমতো হবে। তবে আমরা আলোচনা করছি, কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি।
ওআইসি সংস্কার নিয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসি অনেক দুর্বল হয়ে রয়েছে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় লিপ্ত। সেজন্য চিন্তাভাবনা চলছে কীভাবে ওআইসিকে আরো শক্তিশালী করা যায়। বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হবে বলে আশা করছি।
বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি আদর্শ দেশ। আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মধ্য দিয়ে বড় বড় সমস্যা সমাধান করেছি। ভারতের মতো একটি বড় দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করেছি। এটি আমাদের কূটনৈতিক পরিপক্বতা এবং উচ্চতা প্রমাণ করে। এমনকি মিয়ানমার আমাদের এখানে জোর করে এতগুলো রোহিঙ্গাকে পাঠিয়েছে। আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করছি। সেই সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার বাংলাদেশ সফরকালে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি। তার ২ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশে আসবেন। তখন সার্বিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে কী