ফ্লোরিডার বাংলাদেশি মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ পাইকারি ব্যবসায়ীর সফলতার গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। অধিকাংশ নিত্য পণ্যের দোকানে চলছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট। এমনি এক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফ্লোরিডার সর্ববৃহৎ পাইকারি পণ্যের দোকান ‘মায়ামি কে ডিস্ট্রিবিউশন’ রেখে চলেছে মানবিকতায় পূর্ণ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
অধিকাংশ পাইকারি দোকানে যেখানে চলছে প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং নিয়মিত জিনিসপত্রের ওপর অত্যাধিক মূল্য আরোপ, সেখানে ‘মায়ামি কে ডিস্ট্রিবিউশন’ পণ্যের যথেষ্ট মজুদের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে নায্যমূল্যে সঠিক সময়ের ভিতর দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছিয়ে দিচ্ছে।
এ থেকে যে শুধু মার্কিন জনগোষ্ঠীই উপকৃত হচ্ছে তা নয়, বরং, বাংলাদেশি মালিকানাধীন অসংখ খুচরা পণ্যের দোকানগুলোও উপকৃত হচ্ছে এবং দোকানমালিকেরা এই কঠিন সময়ের ভিতরেও তাদের ক্রেতাদের কাছে দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছাতে পারছেন। পাইকারি সামগ্রীর এই দোকানটির মালিক নাইম খান দাদন কথা বলেছেন আরটিভির সাথে, জানালেন বাসায়িক ক্ষেত্রে তার এই সাফল্য এবং মূল্যবোধের প্রকৃত কারণ।
‘ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে নীতি এবং নৈতিকতা বজায় রেখে ব্যবসা করা খুব জরুরি। আমার এই পাইকারি সামগ্রীর দোকানটি সমগ্র ফ্লোরিডার ভিতর সবচেয়ে বৃহৎ বাংলাদেশি মালিকানাধীন পাইকারি বাজার এবং ক্যাশ এন্ড ক্যারি স্টোর। আজকের এই অবস্থান একদিনে তৈরী হয়নি। যারা এখানে বাজার করতে আসেন তাদের আস্থা আমরা অর্জন করেছি দীর্ঘদিন ধরে সততা এবং নৈতিকতার মাধ্যমে ব্যবসা করে। আমি আসলে এটাকে শুধু ব্যবসা বলে মনে করি না, আমি এটাকে মনে করি আমার কমিউনিটির প্রতি আমার এক ধরণের দায়বদ্ধতা এবং এই দায়বদ্ধতাই আমাকে অনুপ্রাণিত করে ব্যবসায়ের প্রকৃত নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে সঠিক পণ্যটি সঠিক দামে ক্রেতার কাছে পৌঁছিয়ে দিতে।’
নাইম খান দাদনকে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিভাবে এত মালামাল তিনি সরবরাহ করতে পারছেন। উত্তরে তিনি বলেন, আমার দোকানের অধিকাংশ ক্রেতাই হলো বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্যাস স্টেশন এবং গ্রোসারি স্টোরের মালিক। আমি যদি তাদের সরবরাহ করতে না পারি, তাহলে তারা খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীগুলো পৌঁছাতে পারবে না। একারণেই যে কোনও দুর্যোগপূর্ণ সময় বা স্বাভাবিক সময়েও আমি অনেক বেশি মালামাল মজুদ করে রাখি যাতে আমার ক্রেতাসাধারণ খালি হাতে ফিরে না যান। তাছাড়া এইসব পাইকারি বাজারে অনেক সময় বেশি পণ্যের মজুদ রাখাটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যেটা আমি বিক্রি করতে পারবো না সেটার জন্য আমি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে কোনও টাকা ফেরত পাবো না। এমনি বাস্তবতার মাঝেও আমি ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের চেয়ে একটু বেশি মজুদ রাখি সবসময় যাতে আমার ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি যোগান দিতে পারি।’
চারিদিকে যখন চাহিদার চেয়ে যোগানের স্বল্পতা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে, এমনি বাস্তবতায় দাদনের পাইকারি এই দোকানটিতে স্বাভাবিক দামেই এবং ক্ষেত্রবিশেষে মূল্য ছাড়েও পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তাকে আমরা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আসলে আমার এই দোকানটিতে বাংলাদেশি ক্রেতা ছাড়াও প্রচুর মার্কিনিরাও আসেন। তাদের কাছে আমি কখনোই চাইবো না আমার বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরী করতে। এই কারণে সুযোগসন্ধানীদের মতো ক্রাইসিস মুহূর্তে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবার কথা আমি চিন্তাও করতে পারি না।