হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়ে কিছু কথা

গ্রাম অঞ্চলে যে সমস্ত প্রবাসীদের বাড়ি, তাদের বেশির ভাগ ঘর কাঠ-টিনের তৈরী। পায়খানা ঘর থেকে একটু দূরে যা পরিবারের সবাই ব্যবহার করে। অন্যদিকে ওয়াসিং’র জন্য বদনাও একটাই থাকে।
কারও একটি অথবা দুটি টপ বারান্দা ঘর থাকে। তাদেরও পায়খানা একটির বেশি থাকে না। অনেকের বিল্ডিং থাকলেও সংখ্যায় অনেক কম। তাই যিনি হোম কয়ারেন্টাইনে থাকবেন, দরজার হ্যান্ডেল, খিল, বদনা, বিছানা এমনকি টিভি’র রিমোট সবই সে ব্যবহার করবে। অর্থাৎ পরিবারের ব্যবহার্য্য জিনিস সেও ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপর্জনকারী বিদেশ থেকে আসা একজন প্রবাসীর প্রতি মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর আবেগের কারণে তাকে জড়িয়ে ধরা, সন্তানদের আদর করা, কারও সাথে দেখা হলেই হাত মেলানো, কোলাকোলি ইত্যাদি বাঙালির সংস্কৃতি।
তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রবাসীদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা কোনও যথাযোগ্য নিরাপদ না। এইভাবে ভাইরাস অতিদ্রুত ছড়িয়ে পরবেই।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই ভাইরাস সারা পৃথিবীতে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরছে। এতদিনে বিদেশ ফিরত প্রত্যকটি যাত্রীকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার লোকের সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল।
যদিও কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু হাজী ক্যাম্পের যে অবস্থা দেখেছি, তাতে সেখানে থাকা খাওয়া বাথরুম দেখে মনে হয়েছে, ভাইরাসটা প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেবে। তাহলে একজন প্রবাসী এই অবস্থায় কেন সেখানে ১৪ দিন থাকবে?
আমাদের দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট-পাট হয়ে যাচ্ছে, অথচ জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে অন্তত এই মাহামারি থেকে বাঁচার জন্য হাজী ক্যাম্পকে উন্নত মানের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেত।
আমার মনে হচ্ছে, সামনে এই অদৃশ্য বালা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। তাই বেশি কথা বা প্রতিদিন ব্রিফিং না দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এতদিন পরে হলেও বার্ন ইউনিট হাসপাতাল ও গ্যাস্ট্রোলজি হাসপাতাল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিবে। বিদেশ থেকে আসা প্রত্যেকটি মানুষকে সরকারিভাবে এই ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।
ঘরের মধ্যে আলাদা করে রাখা বা না থাকলে জেল জরিমানা বা তালা বন্ধ করে রাখা, কোনটাই কাজ হবে না। এখনও বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতো সিরিয়াস হয়নি। তাই সময় থাকতে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। যাতে তারা সাহসীকতার সহিত আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা দিতে পারেন।