shopner bd
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩২
×

করোনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২৭

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে কারণে সারাবিশ্ব এখন লকডাউন। বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেল ২৯ লাখের মত। গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ২ হাজার ৬৭১জনের। আর এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস মহামারীতে সৌদি আরবে প্রতিদিনই আরো জটিল হচ্ছে। করোনাভাইরাসে সৌদি আরবে এই পর্যন্ত ১৬হাজার ২৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ও অভিবাসী মিলিয়ে ১৩৬জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মৃতদের মধ্যে ৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন দূতাবাস ও কনস্যুলেটর। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৌদি আরবে লাখো বাংলাদেশি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরবে কর্মরত আছেন প্রায় ২০লাখ বাংলাদেশি। মহামারী করোনাভাইরাস কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। ভাইরাস বিস্তার রোধে দেশটিতে চলছে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ। এ অবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসীরাও হয়ে পড়েছেন গৃহবন্দি, বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রয়েছে চরম খাদ্য সংকটে। যদিও শোনা যাচ্ছে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকসহ বসবাসরত বাংলাদেশি ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসী যারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন তাদের স্বাস্থ্য-সেবাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে পাশাপাশি দুর্দশাগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য খাদ্য সামগ্রীও সহায়তা করা হচ্ছে। অপরদিকে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের অবস্থা আরও করুণ। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি তারা আছেন অর্থ সংকটেও। খাবার পাচ্ছেন না। ত্রাণের জন্য ঘর থেকেও বের হতে পারছেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী ত্রান বিতরণকালে জেদ্দা কনস্যুলেটর কনসেল জেনারেল ফয়সল আহমেদ জানান, সৌদি আরবের সব এলাকাতেই কারফিউ এবং লকডাউন চলছে। কোনো মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কাজেই এই পরিস্থিতিতে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন বেতন পাচ্ছেন না তারা বিশেষ সমস্যায় আছেন, আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন এবং অনেকেই খাবার কিনতে পারছে না এই পরিস্থিতিতে। আমরা সৌদি আরব কনস্যুলেটর থেকে প্রবাসীদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কাজ হাতে নিয়েছি লকডাউন ও কারফিউর মধ্যে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের ত্রান সহয়তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কনসেল জেনারেল। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় অতিক্রম করছে তখন সৌদি সরকারের নেয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রক রয়েছে। এছাড়া করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বৈধ অবৈধ সকল অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য মহামহিম বাদশাহকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অধিবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও নির্দেশনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনরা সৌদি আরবে আছেন তাদের যাতে সকল রকমের সুবিধা অসুবিধা আমরা দূতাবাস এবং কনস্যুলেটর যেন পাশে থাকতে পারি। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কন্স্যুলেটর সৌদি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে সৌদি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে সহযোগিতা করা আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্য সহ সারাবিশ্বে অবস্থানরত বাংলাদেশি সকল গণমাধ্যমকর্মীরা নিরোলসভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আজকের এই মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছে। গণমাধ্যমকর্মীরা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ এবং তাদের যোক্তিক দাবী গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উধবুদ্ধ হয়ে সংবাদ সংগ্রহ প্রচারণা করে আসছে। জাতীয় পর্যায়ের কাজ থেকে শুরু করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সব রকমের খবরাখবর প্রচার করে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের কারণে এই সকল গণমাধ্যমকর্মীরা চাকরি হারিয়ে এখন মানবতার জীবনযাপন করতেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে অসহায় মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমতোবস্থায় প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মীরাও বাংলাদেশ সরকারের প্রনদনা থেকে সহযোগিতার প্রত্যাশী। অন্যদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে দেশগুলোতে আগামীকাল ২৪-০৪-২০২০ তারিখ থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার সৌদি আরবে মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল নববীতে সীমিত আকারে তারাবির নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা যদি না কমে তাহলে তারাবিহ নামাজ বাড়িতেই পড়ার আহবান জানিয়েছেন সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আল-শাইখ। গ্রান্ড মুফতি বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে এ বছর মসজিদে যাওয়া সম্ভব নয় তাই নিজ বাড়িতেই এই পবিত্র মাসের ইবাদত বন্দেগী করতে হবে। রমজান মাস উপলক্ষে কারফিউ চলাকালীন সময়ে খাদ্যসামগ্রী, সুপার মার্কেট, ফার্মেসী ও ইলিক্ট্রিক সামগ্রীর জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।