বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে মহাদুর্যোগের মধ্যেই এসেছে পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সৌদি আরবেও ‘লকডাউন’ চলার মধ্যেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের সকল মসজিদ সাধারণ মুসুল্লিদের জন্য বন্ধ করা হয়েছে গত মাসেই। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এমনকি শুক্রবারের জুমার নামাজও মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
এবারই প্রথম রমজান মাসে মসজিদে তারাবির নামাজ থেকে বঞ্চিত সৌদি আরবের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। একইসাথে এই বছর আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশিদের নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতার ও রাতে সবাই মিলে মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করতে পারছে না। তাই এইবার মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় দেখা যাচ্ছে না। ঘরে মধ্যেই সীমাবদ্ব রমজানের সব আয়োজন। বর্তমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা ঘরবন্দী অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনের মাধ্যমেই প্রতিদিনই কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবারে মাহে রমজান এলো ভিন্ন এক পরিবেশে। উৎসবের আমেজ নিয়ে হবে না ইফতার পার্টির আয়োজন। প্রতি বছরই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলো বিশাল আকারে আয়োজন করতো ইফতার মাহফিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বছর তা আর পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি আদেশের কারণে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সৌদি আরব কার্যত অবরুদ্ধ। এ অবস্থায় সাধারণ কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। রয়েছে খাদ্যের অভাবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলো তাদের ইফতারের আয়োজন করার খরচ গুলো দিয়ে অনাহারি অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করতেছে।
সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় ইফতার আয়োজন করা হতো মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল নববীতে। এখানে ইফতার করতো কয়েক লক্ষ মুসল্লি। প্রতি বছর রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই ইফতার মাহফিল আয়োজনের ব্যস্ততা দেখা যেত। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রত্যেকটি মসজিদে আয়োজন করা হতো মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন। এই সমস্ত মসজিদে বেশিরভাগেই অংশগ্রহণ করতো প্রবাসী শ্রমিকরা। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এই বছর ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে না।
সৌদি আরব রমজান উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ কিছু শিথিল করেছে। সৌদি বাদশাহ মক্কা ও মদিনায় মুসলমানদের দুই পবিত্রতম মসজিদে তারাবি নামাজের অনুমতি দিয়েছে, তবে সাধারন নামাজিরা যেতে পারবেন না। এছাড়া, সৌদি আরবের জারী করা কারফিউ সকাল ৯টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত কিছুটা শিথিল থাকবে।