জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদ ফোবানার

কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্তৃক নির্মম অত্যাচারে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দাসহ গভীর শোক প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)।
গত ২৫ মে মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েডকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যে ঘাড়ের ওপর পা দিয়ে পিষে নৃশংস নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে ওই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। ওইদিনের পৈচাশিক বর্ণ বৈষম্যের শিকার জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে গোটা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে অগণিত শান্তিকামী অসংখ্য মানুষ প্রতিদিনই তীব্র ঘৃণা প্রকাশসহ অপরাধীর কঠিন সাজার দাবি জানিয়ে রাস্তায় রাস্তায় শোভাযাত্রায় সমবেত হতে থাকে। এই বিরতিহীন প্রতিবাদী মানুষের সাথে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ফোবানার নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকেও প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফোবানার নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান শাহ্ হালিম ও নির্বাহী সচিব ড. আহসান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি বর্ণবাদী আচরণ কোন সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পরিচয় নয় এবং কৃষ্ণাঙ্গদেরও জীবনের মুল্য আছে, এদেশের প্রতিটি নাগরিকেরই জীবনের মূল্য আছে এবং এদেশে বর্ণবৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হোক।
উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে একজন স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়েছেন, একজন সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছেন, ভাই হারিয়েছেন তার ভাইকে, একজন মা তার প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছেন, আত্মীয় বন্ধুরা হারিয়েছেন তাদের স্বজনকে। মূলত সমাজ থেকে একজন শান্তিকামী অধিবাসী হারিয়ে গেল। আমরা ফোবানার পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সেইসাথে প্রয়াত জর্জ ফ্লয়েডের বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করছি।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের দুই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এদেশের সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একতার ভিত্তিতেই শুধু বৃহত্তর কল্যাণ সাধন সম্ভব ও দেশে বিরাজমান এই বর্ণ বৈষম্যের নিকষ কালো অন্ধকার দূর করা সম্ভব। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের দৃঢ় অবস্থান থেকে বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই এবং সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের সমর্থন ব্যক্ত করি, ভবিষ্যতে যেন এমনিভাবে বর্ণ বৈষম্যের কারণে আর কাউকে প্রাণ দিতে না হয়, যেন প্রতিটি নাগরিক তার সমান অধিকার ও সম্মান নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।