ইনভেস্টর জাহাঙ্গীরের স্মরণে রিয়াদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রিয়াদের বাথা রামাদা হোটেলের সেমিনার কক্ষে ইনভেস্টর জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে গত শুক্রবার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। রিয়াদ বঙ্গবন্ধু পরিষদ এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। মাহফিলে সীমিত সংখ্যক লোক উপস্থিতি ছিল।
এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রিয়াদ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মো. রইসউদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির বিশ্বাস।
এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা ফারুক, কবি শাহজাহান চঞ্চল, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, মো. সুজন এবং আরো অনেকে। মাওলানা ফারুক বলেন, বর্তমানের ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সময় হতাশ না হয়ে আমাদের সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তিনি সবাইকে নিয়মিত নামাজ পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। তিনি আরো বলেন, কারো কোনো অসুস্থতা শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থার কথা দ্রুত জানিয়ে দেওয়া খুব জরুরি।
কবি শাহজাহান চঞ্চল ইনভেস্টর জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার দীর্ঘ দিনের সহঅবস্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মরহুমকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন অনেক বড় মনের মানুষ। নিজের অসুবিধার কথা কখনো চিন্তা না করে অন্যের সাহায্যে সব সময় এগিয়ে আসতেন।
জাহাঙ্গীর আলমের কাছের বন্ধু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির বিশ্বাস বলেন, সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তা কোনোভাবেই মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। তিনি মরহুমের স্ত্রী এবং সন্তান-সন্তুতিদের সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্মরণ সভায় রিয়াদ আওয়ামী পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, নজরুল একাডেমি সৌদি আরব এবং অন্যান্য বেশ কিছু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মো. রইসউদ্দিন মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এছাড়া সবাইকেও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
দোয়া মাহফিলে জাহাঙ্গীর আলমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া এবং মুনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ আব্দুস সালাম।
প্রসঙ্গত, রিয়াদের বাঙালি কমিনিটিতে একজন ইনভেস্টর এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও নজরুল একাডেমি সৌদি আরবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৬ জুন কার্ডিয়াক রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। গত ২৯ জুন রিয়াদের মানসুরিয়া কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের আকস্মিক মৃত্যুতে রিয়াদের বাঙালি সমাজে তার বন্ধু-বান্ধক, রাজনৈতিক সহযোগী, সাংস্কৃতি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।