রিয়াদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩য় বর্ষপূর্তি ও ঈদ পূর্ণমিলনি উদযাপিত

রিয়াদস্থ অভিজাত একটি পার্টি সেন্টারে জাকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে রিয়াদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩য় বর্ষপূর্তি ও ঈদ পূর্ণমিলনি উদযাপিত হয়েছে।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক হোসেন তানিমের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসনাত সুমন পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (রিয়াদ আওয়ামী লীগ) এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর রেজাউল করিম মিলন।
প্রধান অতিথি বলেন, রিয়াদে আওয়ামী রাজনীতির নামে ভন্ডামী শুরু হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সব অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রিয়াদ স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি সুসংগঠিত সংগঠন, এটি এখন সর্বজনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে পরিণত হয়েছে। তিনি সংগঠনটির উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।
প্রধান বক্তা ছিলেন- রিয়াদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হায়দার ভূঁইয়া। তিনি বলেন- দেশ- বিদেশে স্বেচ্চাসেবক লীগ একটি সুসংগঠিত সংগঠন। প্রবাসেও আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানগার্ড হিসেবে অতন্ত্র প্রহরি হিসাবে কাজ করে যাবো।
বিশেষ অতিথি ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (রিয়াদ আওয়ামী লীগ) সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহিউদ্দিন বলেন- দিন দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রবাসেও অনেক মুক্তিযোদ্ধারা ধুকে ধুকে দিন কাটাচ্ছে। প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এছাড়া একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসে ২৫/৩০ বছর কটিয়ে অনেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়। এইসব অসহয় প্রবাসীদের পেনশন ভাতা চালু করার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও রিয়াদ প্রদেশিক শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ৬ দফার মধ্যে আমাদের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। ৬ দফা না হলে কোনদিন ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান হতো না। আর গণ-অভ্যুত্থান না হলে সত্তরের নির্বাচন হতো না এবং নির্বাচন না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না, মুক্তিযুদ্ধ না হলে দেশ স্বাধীন হতো না। এই ৬ দফা ছিল নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত এবং ন্যায্য সুবিধাবঞ্চিত বাঙালী জাতিকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে মুক্ত করার জন্য বাঙালিদের প্রাণের দাবি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন।
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা এই ৬ দফা বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুকে মানে না তাদের সাথে সমঝোতার হতে পারে না।
আরও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (রিয়াদ আওয়ামী লীগ) সহ সভাপতি আব্দুর রহমান চোধুধী। তিনি রিয়াদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগেক তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সংগঠনের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান
অনুষ্ঠানের সভাপতি আবুল হাসনাত সুমন শারিরিক অসুস্থতার কারণে সভার মাঝখানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অসুস্থতা অনেকটা বেশি হওয়ার কারণে সভায় থাকার অপারগতা প্রকাশ করে তার অনুপস্থিতিতে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি লিটু মোল্লাকে সভাপতিত্ব করার অনুমোতি দিয়ে সভা ত্যাগ করেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন- ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (রিয়াদ আওয়ামী লীগ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুরাদ, বৃহত্তর ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস্কান্দর আলী খান রিয়াদ মহানগর যুবলীগের সহ সভাপতি টিপু সুলতান। রিয়াদ জেলা সেচ্ছাসেব লীগের কামরুল হাসান কামরুল, নজরুল ইসলাম হাওলাদার সহ বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে রিয়াদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সুদৃঢ় কেক কাটে জয় বাংলা স্লোগানে অনুষ্ঠান স্থল মুখরিত করে তোলে নেতা কর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।