রিয়াদে অসুস্থ বাংলাদেশির পাশে কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটি

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পৃথিবীর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। ধনী গরীব সবার মাঝে এক মৃত্যুর আতংক বিরাজমান। সেই মুহূর্তে অনেক প্রবাসী কর্ম হাড়িয়ে এক বিস্বাদময় জীবনযাপন করছে। কত দিন, কত মাস এভাবে চলবে কারো জানা নেই। নেই কর্ম, নেই থাকা ও খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা। তার মাঝে কঠিন অসুখ-বিসুখ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। এমন এক পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন সৌদি আরব রিয়াদ সিটির নাসিম হারেজ এরিয়ায় প্রবাসী আবদুল কুদ্দুস।
সে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সির হাট ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামের মজুমদার বাড়ির মনতু মিয়ার ছেলে। রিয়াদ সিটির নাসিম হারেজ এরিয়ায় বসবাস করছে।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় ছয় মাস পূর্বে তার এপেন্ডিসের অপারেশন সফলভাবে শেষ হয়। কিন্তু একমাস পর প্রাথমিকভাবে ব্যথা অনুভব হয়। আস্তে আস্তে ব্যথা বৃদ্ধি পেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে গেলে জানা যায়, ভিতরে সমস্যা আছে। আবারও অপারেশন লাগবে। এর মাঝে রিয়াদে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউন শুরু হয়।
নেই কর্ম, নেই দেশে যাওয়ার কোনও পথ। এক দিশেহারা অবস্থা। বন্ধু- বান্ধব, আত্মীয়- স্বজন থেকে ধার করে কোনও রকমে বেঁচে আছেন বলেন জানান কুদ্দুস। বলেন, চিকিৎসা করা তো দূরের কথা। এখন দেশে গিয়ে চিকিৎসা করার জন্য বাধ্য হয়ে সোসাইটির কাছে সাহায্য চেয়েছি।
আব্দুল কুদ্দুসের মানবিক আবেদন বিবেচনা করে, কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটির সভাপতি নূরুল ইসলাম নূরু’র দিকনির্দেশনায় কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটি কল্যাণ ফান্ড নগদ অনুদান প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটি কল্যাণ ফান্ডের প্রধান নূরুল আলমের নেতৃত্বে অনুদান প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - এইচ, এম আলমগীর, তথ্য ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক মো. রুস্তম খাঁন, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক ভূইয়া, সহ- অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, সদস্য জসিম উদ্দীন, তাসলিম খন্দকারসহ আরো অনেকে।
কুমিল্লা প্রবাসী সোসাইটি কল্যাণ ফান্ডের প্রধান নূরুল আলম বলেন, আমরা আবদুল কুদ্দুসের পাশে দাঁড়িয়েছি মাত্র। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আশা করি, সমাজের বিত্তবানসহ রিয়াদ দূতাবাস এগিয়ে আসবে।