সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ২৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসিকে উন্নত ও আধুনিক উপায়ে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
সোমবার (২৭ জুলাই) দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ সৌদি আরবে পাঁচ বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন শেষে আগামী মাসে দেশে ফিরে যাবেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সৌদি আরবের বড় শহরগুলোতে প্রবাসী সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মাম, রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনাসহ অন্যান্য শহরে প্রবাসী সেবা কেন্দ্রসমূহ রাত দিন প্রবাসীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। যাতে দূরদূরান্ত থেকে প্রবাসীদের আর দূতাবাসে বা কনস্যুলেটে আসার প্রয়োজন হচ্ছে না, এতে তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
তিনি দূতাবাসের সকলকে ভালো আচরণের মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত প্রবাসীদের সকল সেবা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ উল্লেখ করেন, বিগত পাঁচ বছরে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময়ে সৌদি বাদশাহ এর আমন্ত্রণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতেপাঁচবার সৌদি আরব সফর করেছেন। যা দু’দেশের সম্পর্ককে বেগবান করেছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিপুল শ্রম বাজারের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৮ সালে সৌদি আরবের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভবন তৈরির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। রিয়াদে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন তৈরির কাজও অচিরেই শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশি হাজিদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য হাজিদের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আশা করছি ,আগামী দিনে সকল হাজিদের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রবাসীদের বিমা সুবিধা প্রদানের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
গোলাম মসীহ উল্লেখ করেন, করোনা মহামারির সময় প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসীদের কাছে সরকারের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য ডক্টরস পুল গঠন করে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আটকেপড়া প্রবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।
দূতাবাসের পমিশনপ্রধান আনিসুল হক রাষ্ট্রদূতকে জনতার রাষ্ট্রদূত আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি প্রবাসীদের জন্য যেসকল উদ্যোগ গ্রহণ করে গেছেন তা সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিরা চির দিন মনে রাখবে। তার প্রচেষ্টায় সৌদি আরবে বাংলাদেশি স্কুলগুলো বিভিন্নভাবে সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে দেশের শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি কামনা করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।