জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মরিশাসস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে। এ উপলক্ষে মিশন প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা, কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত, অসুস্থ্য সকল ব্যক্তির সুস্থতা কামনা এবং বাংলাদেশ ও মরিশাসের জনগণের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রবাসী বাংলাদেশী জনাব নাজমুল বাশার। আলোচনা সভার শুরুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সেলর (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান জনাব মো: অহিদুল ইসলাম।
মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন যে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব পরস্পর অবিচ্ছেদ্য নাম। প্রথমেই আমি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। জীবন চলার পথে একে অপরের অপরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছেন 15 আগস্টের কালরাত্রিতে, যেদিন সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিশংসভাবে খুন হন। ইতিহাসে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মাতা। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই জেলে কাটিয়েছেন। যার জন্য বঙ্গমাতাকে এক হাতেই সন্তান পালনের কাজটি করতে হয়েছে।

মান্যবর হাইকমিশনার আরো বলেন যে, আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবিতে বাঙালি রাস্তায় নামে। পাকিস্থান সরকার এ সময় লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তিনি কারাগারে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোর বৈঠকে যেতে নিষেধ করেন। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্যারোলে মুক্তি না নেওয়ার শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের এই সিদ্ধান্ত নি:সন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার নিদর্শন বহন করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণের নেপথ্যেও ছিলেন তিনি, নীরবে নিভৃত্বে সেদিন তিনি বঙ্গবন্ধুকে সাহস যুগিয়েছিলেন আর সত্য এবং সঠিক পথের দিশারী হয়ে পাশে থেকেছেন।

আলোচনা শেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের উপর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত শিশু কিশোরদের নিয়ে এক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে কেক কাঁটা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে সকলকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
