রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহামারী করোনার কারণে আলোচনা অনুষ্ঠানটি গুগলমিট অ্যাপস এর সাহার্যে সম্পন্ন করা হয়।
বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংরাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং কাউন্সেলর ও বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওডি’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, এসিস্ট্যান্ট সিগনেটরি ইঞ্জিনিয়ার গোফরান, কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক প্রমুখ।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. খাদেমুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলামের পবিত্র কোরান থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারাহ কবির, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এহসানুল রাফিদ আদিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন তাহিয়া জামান।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন তার স্বাগত বক্তব্যে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অসামান্য অবদানের সংক্ষিপ্ত ভাষা চিত্র তুলে ধরেন এবং তার আদর্শকে ধারণ করার জন্য আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যালয়ের কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক বলেন, এই দিনটি আমাদের ন্য অত্যন্ত দুঃখের দিন। যার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি অথচ চরম অকৃতজ্ঞের মতো কিছু বিপদগামী সেনাসদস্য নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি সেইদিন বাসায় উপস্থিত সবাইকে নির্বিচারে হত্যা করে।
ইঞ্জিনিয়ারগোফরানবলেন, তির পিতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ। শোকের এইদিনে তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার উদাত্ত আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতি পিতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নূর উদ্দীন ও মেজর ডালিমের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন খেতাব বাতিলের আহ্বান জানান।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা ভেবেছিল জাতির পিতাকে হত্যা করে বাঙালির অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করে দেবে। কিন্তু সেই তারা আমাদের থেকে জাতির পিতার প্রাণ কেড়ে নিলেও জাতির অগ্রযাত্রাকে স্তমিত করে দিতে পারেনি। তার যোগ্য উত্তরসূরী মানবতাবাদী নেত্রী চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী উপযুক্ত সময়ে জাতির হাল ধরেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বর্তমান সময়েও বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিনির্মাণের তার আঠারো কোটি টাকার অনুদানের জন্য আবারও সকৃতজ্ঞ অভিভাদন জানান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ কাউন্সেলর মো. মেহেদী হাসান বলেন, তির পিতা এবং তার পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যার পর তাদের দোসর চক্র ক্ষমতায় এসে একটা দীর্ঘ সময় বাঙালি জাতিকে সত্যিকার ইতিহাস জানানো থেকে বিরত রাখে। এখন সময় এসেছে সত্যিকারের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার। শিক্ষার্থীদের কাছে অন্তত দুইমাস অন্তর অন্তর হলেও জাতির পিতাকে নিয়ে রচিত বিভিন্ন প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা। ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস শিক্ষা দিতে হবে। জাতির পিতার অসামান্য অবদানের কথা সবাইকে জানাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদ বলেন, ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু তার জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। স্বদেশের অবহেলিত দুঃখী মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য। তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনের মাত্র চার বছরের মাথায় দেশি-বিদেশি চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন জাতির পিতা। ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ ধানমন্ডির ৩২নম্বর সড়কের যে ঐতিহাসিক বাস ভবন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই গৃহেই বুলেটে বিদীর্ণ করা হয়েছিল তাকে। অকুতোভয় শেখ মুজিব মৃত্যুবরণ করেও অমর, চিরঞ্জীব-চিরভাস্বর।
বঙ্গবন্ধু আমাদের সেই মহার্ঘ্য প্রতীক, আমাদের পতাকা, একান্ত মানচিত্র, আপামর বাংলার। তিনি রাজনীতির মহাকবি, বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন দিয়ে রচনা করেছন আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। যারা জাতির পিতা তার পরিবারবর্গকে নৃসংসভাবে হত্যা করেছে তাদের এই জঘন্যতম অপরাধের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি। তিনি জাতির পিতার আত্মার শান্তি কামনা করেন। পরিশেষে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের কথা সকৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্থ করে বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে জাতির পিতার অসামান্য অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রতিটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচার করা হয় এবং তার উপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সঠিক ইতিহাস ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।
পরে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক নেসার উদ্দিন।