জীবিকা সংকটে বিদেশফেরত বাংলাদেশিরা

মহামারি করোনাভাইরাস সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন বহু প্রবাসী। এছাড়া অনেকেই দেশে ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ অভিবাসী জীবিকা, আর্থিক সংকট (উপার্জনের অভাব ও বর্ধিত ঋণ) এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়সহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্স-নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিদেশফেরত অভিবাসীদের ওপর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা—আইওএমের পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ফেরাদের প্রায় ৭০ শতাংশ জীবিকাহীন। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে সুনির্দিষ্টভাবে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে এই সংকট তৈরি হয়েছে। উপার্জনব্যবস্থা, সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্কের অভাবে হাজার হাজার অভিবাসী কর্মী দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মোট ২৯ শতাংশ বলেছেন, যে দেশে তারা ছিলেন সেই দেশ ত্যাগ করতে বলায় তারা ফেরত এসেছেন। ২৩ শতাংশ জানান, তারা কোভিড-১৯ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং পরিবারের কাছে ফেরত আসতে চেয়েছেন। ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার আসতে বলায় তারা ফিরে এসেছেন। ৯ শতাংশ জানান, তাদেরকে বলা হয়েছে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আটকে পড়ার ভয়ে তারা ফেরত এসেছেন।
মোট ৫৫ শতাংশ জানান, তাদের ওপর ঋণের বোঝা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুর কাছে ঋণগ্রস্ত, ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই), স্বনির্ভর দল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রস্ত। পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণকারীদের ৮৬ শতাংশ বিনা সুদে ঋণ নিয়েছেন। অন্যদিকে এমএফআই, এনজিও এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের জন্য সুদ দিতে হচ্ছে।
আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সবচেয়ে বিপদাপন্ন গোষ্ঠীদের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। বৈশ্বিক চলাচলের ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কোভিড-১৯ মহামারি সৃষ্ট মন্দার ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী এবং রেমিট্যান্স-নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর।