রেমিটেন্সের ইতিবাচক ফলাফলের পরও কাজে আসছে না রিজার্ভ

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। আর এতে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি পুরোপুরি চাঙ্গা না হওয়ায় এই রিজার্ভ খুব বেশি কাজে আসছে না। তবে ডলারের বিপরীতে মূল্যমান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে টাকা। আর বিদ্যমান রিজার্ভ দিয়ে অন্তত ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলেও মত তাদের।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত মার্চ-এপ্রিল-মে এই তিন মাস দেশের অর্থনীতি বেশ চাপে ছিল। মার্চ-এপ্রিলে গতি কমে প্রবাসী আয়ও। তবে মে থেকেই বাড়তে থাকে রেমিটেন্স প্রবাহ। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর মধ্যে শুধু জুলাই-অক্টোবর সময়ে রেমিটেন্স এসেছে ৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেস প্রবৃদ্ধি ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বর্তমান অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রেমিটেন্সের চিত্র : অক্টোবরে ২১১ দশমিক ২৪ কোটি মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২১৫ দশমিক ১০ কোটি মার্কিন ডলার, আগস্টে ১৯৬ দশমিক ৩৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং জুলাইয়ে ২৫৯ দশমিক ৮২ কোটি মার্কিন ডলার।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শক্তিশালী রিজার্ভ বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য স্বস্তিকর। বিনিয়োগে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রথম প্রান্তিকে আমদানি ব্যয় ছিল ১২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলানায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। আর এসময়ে রপ্তানি আয় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শক্তিশালী রিজার্ভ থাকলে যে কোনও পরিস্থিতিতে শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি ব্যয় মেটানো সহজ হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, এ রিজার্ভটা আমাদের ভবিষ্যতে ইমপোর্ট করতে যে অর্থের প্রয়োজন হবে তা পূরণ করতে সক্ষম হবে। তাতে করে জনগণ উপকৃত হবে। কাঁচামাল ইমপোর্ট হলে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি রফতানিও বাড়বে।
এদিকে, রেমিটেন্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়ায় চলতি হিসাবেও বড় উদ্ধৃত্ত তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্যান্য দেশে ডেপটিসেশন হলেই রফতানি কমে যাবে সেটা আমার মনে ঠিক নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যেসব বাজারে আমরা রফতানি করি সেসব দেশের অর্থনীতির অবস্থা জানা।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে রেমিটেন্স প্রবাহ চিত্র বদলে যেতে পারে। তাই রিজার্ভের অর্থ অপরিকল্পিত ব্যয় না করার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।