shopner bd
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
×

ঈদে প্রবাসের দিনগুলো

  জুয়েল সাদাত, যুক্তরাষ্ট্র ০৭ মে ২০২১, ১৬:০৯

জুয়েল সাদাত

কোভিড-১৯ পৃথিবীতে ঈদ গুলোও রংহীন। এবার নিয়ে আমরা করোনাকালীন তিন টা ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি। করোনাকালীন সময়টা অতিক্রম করতে পারছিনা আমরা। রমজানেও দেশে লকডাউন এ কাটাচ্ছেন দেশের মানুষ। সবার প্রশ্ন আমরা কেমন আছি? আমরা ভাল নেই। আমরা প্রবাসে কম বেশী সবাই ভ্যাকসিন দিয়েছি। তবে রমজানটা মনের স্বাদ মিটিয়ে পালন করা গেল না। বিশেষ করে তারাবিহ নামাজ পড়তে না পারার আক্ষেপ রয়েই গেল অনেক জায়গায়। আমেরিকায় বাংলাদেশী প্রবাসীর সংখ্যা কত হতে পারে। কোন সঠিক আন্দাজ করা না গেলেও ধরে নেয়া যায় ৬ লাখের কম বেশী। সংখ্যা গানিতিক হারে বাড়তেই আছে। নিউ ইয়র্ক, মিশিগান, বাফেলো, ফ্লোরিডা, আটলান্টা, শিকাগো নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, এই সব বড় বড় ষ্টেট ছাড়াও আমেরিকার ৩০ টি ষ্টেটের দেড় শতাধিক সিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আছেন।
 
প্রবাসের ঈদ গুলো কেমন হয়ে থাকে? আবার করোনাকালীন ইদ গুলো কেমন?  দুটো প্রশ্ন অনেকেরই। আসলে বাংলাদেশীরা যেখানেই থাকেন একটি কমিউনিটি বেইজড বসবাস। সে হিসাবে প্রবাসের ঈদ গুলো অনেক প্রানবন্ত। ঈদের নামাজের পর একজন আরেকজনের বাসায় যান। সারা দিনই ঘুরে বেড়ানোর রেওয়াজ। যদিও তা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কোন রকম সামাজিকতা মেইনটেইন করেন। তবে আমেরিকায় ফ্যামিলী বেইজড প্রবাসীদের আধিক্য হিসাবে নিজের আপন ভাই বোন, শশুর বাড়ির লোকজন পাশাপাশি বসবাসের রেওয়াজ থাকায় এখানে আনন্দটা অন্যরকম। তারপর বন্ধু বান্ধব নিয়ে একটা বড় সার্কেল নিয়ে সবার বসবাস।

প্রবাসে ঈদ কেমন হয়? প্রবাসের ঈদ গুলো অনেক রঙ্গীন। করোনাকালীন সময়ে ঈদ গুলো দেশের আদলে উদযাপন করার চেষ্টা চলে। অনেকেই এবার ঈদের কাপড়ের জন্য ভারতীয় নানান অনলাইন শপে অর্ডার করেছেন। কিন্তুু ভারতীয় বর্তমান দুর্যোগপুর্ন অবস্থায সন্দেহ দেখা দিয়েছে ঈদের কাপড় সময় মতো পৌছাবে কিনা। করোনাকালীন সময়টাতে অনলাইনে ঈদ শপিং করছেন বিদেশের সকল প্রবাসীরা। বিদেশের শপ গুলোতে অর্ডার ও রিটার্ন সহজলভ্য হলেও ভারত সহ অন্যান্য দেশের অনলাইন শপিংটাতে রিটার্ন পলিসি কঠিন তাই অনেক সময় ঈদের কাপড় নিয়ে নানা বিড়ম্বনা দেখা দেয়। 

আমেরিকায় ঈদের জামাতের সুযোগ রয়েছে, নামাজে পুরুষ মহিলা এক সাথে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ থাকলেও করোনাকালীন সময়ে পুরুষরাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়ে থাকেন। সাথে মাস্ক পড়তেই হয় এবং জায়নামাজ সঙ্গে রাখতে হয়। যদিও সবাই ভ্যকসিন নিয়েছেন, তারপরও করোনা সময়টাতে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক করার সুযোগ নাই। নামাজ পড়ে মসজিদে গ্যাদারিং করা যাবে না সকলকে বাসায় ফিরে যেতে হবে। এবার ইউক ডেতে সম্ভবত বুধবার বা বৃহস্পতিবার ঈদ হবার সম্ভাবনা। তাই অনেক শিক্ষার্থীর স্কুলে যেতে হতে পারে। এটা অনেকটা নির্ভর করে অভিভাবকরা যদি ঈদ উদযাপনের পরিবেশ তৈরী করেন। আত্বীয স্বজন বন্ধু বান্ধবীদের আমন্ত্রন জানান বা পাড়া পড়শির বাসায় যান। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে চান, বা বেশী মেলামেশা করতে চান না। তবে আগামী প্রজন্নদের ঈদের স্বকীয়তা শেখানো উচিত, জানানো বা দেখানো উচিত এটাই আমাদের রিলিজিয়াস হলি ডে। 

যতই কাজের বা স্কুল কলেজের অজুহাত থাকুক তারপরও সবার উচিত ঈদের আনন্দ উপভোগ করা। আমাদের শহর ফ্লোরিডার কিসিমি এখানে আমরা দেড় শ পরিবার আশে পাশে বসবাস করি, আমরা মসজিদে নামাজ পড়ে সেখানে ঘন্টা খানেক কুশল বিনিময় করে বাসায় চলে আসি। মসজিদে কফি, ডোনাট ও নানা রকম হালকা স্ন্যাক্স এর ব্যবস্থা থাকে। তারপর সারাদিন বন্ধু বান্ধরা আসতে থাকেন সকাল ৯ থেকে দুটা পর্যন্ত। তারপর কিছু সময় নিজের প্যারেন্টস বা ভাই বোনদের বাসায় যাই। তারপর সন্ধা থেকে আবার বাসায় অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করি সন্ধা ৬ টাকা থেকে রাত দশটা এগারটা পর্যন্ত চলে অতিথিদের আনাগোনা। শ'খানেক প্রবাসী বাসায় আসেন। সে এক অন্য রকম অনুভুতি। ঈদের পরদিন সারা দিন আশে পাশের নানান বন্ধু বান্ধবদের বাসায় যাই। অনেকেই বিশ্বাস করবেন না, আমরা তিন দিন ঈদের আনন্দ উপভোগ করে থাকি আমাদের শহরে। কোভিড-১৯ চলাকালীন তা সীমিত হলেও আমাদের হৃদ্যতা চলতেই থাকে। প্রবাসী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক, মিশিগান বাফোলো, নিউ জার্সি, আটলান্টা, সাউথ ফ্লোরিডা, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ঘনবসতি পুর্ন বাংলাদেশী এলাকা গুলোতে ঈদের আনন্দ বেড়ানো দেশের চেয়েও আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ্য। এর মধ্য মিশিগান এ বিশেষ করে পুরো ব্লকের ৩০/৪০ বাড়িগুলো পাশাপাশি যা পুরোটাই দেশের আমেজে পুর্ন থাকে ঈদের দিনে।

প্রবাসের ঈদের জামাত গুলো কোভিড পুর্বে হাজার হাজার প্রবাসীর উপস্থিতিতে বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হত। সেখানে ঈদগাহ এর আমেজ পাওয়া যেত। করোনাকালীন গত দুটি ও ২০২১ এবারের ঈদ উল ফিতর নিয়ে মোট তিনটি কিছুটা ব্যাতিক্রমী হলেও প্রবাসীরা সামাজিক দুরত্ব মেনে সিডিসি গাইড লাইন মেনেই ঈদ উদযাপন করবেন। প্রবাসের ঈদ আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আমেরিকাতে ঈদের আগের দিন আমরা চাঁদ রাত পার্টি পালন করে থাকি যা আনন্দের। সেখানে ছোট শপিং এর ব্যবস্থা থাকে, মেহেদী দেবার লাইন পড়ে যায়। প্রবাসের ঈদ গুলো আমাদের ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনার পরে এক ভ্রাতৃত্বপুর্ন সম্পর্কের দিক উন্মোচন করে। আমরা বাংলাদশের ৬৪ জেলার ৪৬০ টি উপজেলার প্রবাসীরা আমরা একে অপরের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাই।

লেখক: জুয়েল সাদাত - সাংবাদিক কলামিষ্ট ফ্লোরিডা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।