স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৫ জুলাই ২০২১, ১৭:৫৬
মালয়েশিয়ায় জোরপূর্বক শ্রম ও মানবপাচার বন্ধে গাইডলাইন তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং মালয়েশিয়া সরকার। এর ফলে মালয়েশিয়ায় যেকোনও দেশি বা বিদেশি শ্রমিক বা কর্মীকে নিয়োগকর্তা বা কোনও ব্যক্তি জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করলে বা এ উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার হলে তারা মালয়েশিয়ার পুলিশ, শ্রম দফতর, মানবপাচার প্রতিরোধ কাউন্সিল, ট্রেড ইউনিয়ন এবং নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থায় রিপোর্ট করতে পারবেন। সংস্থাগুলো কর্মীর বিষয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং তথ্য ও কর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে গাইডলাইনে।
ফ্রন্টলাইন পরিষেবা সরবরাহকারী গাইডলাইন অনুযায়ী ৫টি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এগুলো হলো- সম্ভাব্য মামলার প্রতিবেদন করা; সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই; ভুক্তভোগীর চাহিদা মূল্যায়ন; মামলার রেফারেল তৈরি; এবং উল্লিখিত মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রতিটি অপরাধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
গাইডলাইনে মানবপাচার সম্পর্কে মালয়েশিয়ার অ্যান্টি ট্রাফিকিং ইন পারসন অ্যান্ড অ্যান্টি স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্ট আইন ২০০৭ উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে জোর করে নিয়োগ, পৌঁছে দেওয়া, স্থানান্তর বা পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া বা কোথাও রেখে দেওয়া এবং গ্রহণ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়াও বল প্রয়োগ করা বা হুমকি দেওয়া, জোর করা, অপহরণ করা, প্রতারণা করা, ভুল তথ্য দিয়ে প্রলুব্ধ করা, দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া, এ থেকে আয় করে এবং তাদের শোষণ করা মানবপাচার এবং অভিবাসী পাচার অপরাধ হিসেবে সংঘটিত হবে।
জবরদস্তিমূলক শ্রমের বিষয়টি সম্পর্কে গাইড লাইনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব কাজ বা পরিষেবা/সার্ভিস কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে কোনও শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা ভয় দেখিয়ে বা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে জোর করে নেওয়া হয় এবং যার জন্য ওই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সম্মতি জ্ঞাপন করেনি এমন ঘটনা ফোর্সড লেবার হিসেবে চিহ্নিত হবে।
যে কেউ গাইড লাইনে উল্লিখিত ২২টির মধ্যে যেকোনও একটি ঘটনার শিকার হলে কোড স্ক্যান করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্যদাতার তথ্য গোপন রাখার শর্ত রয়েছে।
২২টি তথ্য হলো: কর্মক্ষেত্রের প্রকৃতি (কাজ, বেতন, আবাসন, নিরাপত্তা) এবং শর্ত সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল; পাসপোর্ট, আইনি বা অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র আটকে রাখা; শারীরিক বা যৌন নির্যাতন/সহিংসতা; সংবেদনশীল শব্দ বা মৌখিক/কথার দ্বারা নির্যাতন; নিজ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংসতার হুমকি; কাগজপত্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে (পুলিশ বা ইমিগ্রেশন) জানাতে বা ধরিয়ে দিতে হুমকি দেওয়া; বাড়িতে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া; কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করার হুমকি দেওয়া, ঋণ বা ধারদেনা করলে তা বৃদ্ধির হুমকি দেওয়া, কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া, অনুপযুক্ত শর্তাদির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকারীদের অর্থ প্রদান, অতিরিক্ত রিক্রুটিং ফিস প্রদান, বেতন আটকানো, অন্যায়ভাবে বেতন থেকে টাকা কাটা, অবরুদ্ধ থাকা, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়া, অতিরিক্ত কাজ করানো, ছুটির দিন উপভোগ করতে না দেওয়া বা ছুটি নেওয়ার অনুমতি নেই, জীবনযাত্রার/বসবাসের অবনতি ঘটছে এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী নিজেই এবং অন্যান্য কর্মকর্তা বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে ওপরের বিষয়গুলো অনেক আগে থেকেই যাচাই করছেন।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com