অনলাইন ডেস্ক ২৯ নভেম্বর ২০২১, ২০:৩৭
আছি ওয়াদী আদ দাওয়াসীরে। সরকারী কাজেই এসেছিলাম বৃহষ্পতিবার রাতে। ওয়াদী, রিয়াদ হতে ৬০০ কি মি দক্ষিণের জেলা শহর। সাধারণত রিয়াদের বাইরে বিভিন্ন শহরে গেলে আমাদের প্রবাসী ভাইদের লেবার ক্যাম্পে যেয়ে সমকালীন নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলি, তাদের কথা শুনি। কিন্তু আজ মি. ফারহান আদ্দৌসারীর নিমন্ত্রণে গিয়েছিলাম সৌদিদের এক আড্ডায়। যাদের সকলের কাছে প্রায় একের অধিক বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে।
ছোট বড় মিলিয়ে একই ফ্যামিলির সত্তরের অধিক উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যাবসায়ীসহ নানা পেশার। দাদা, বাবা, চাচা, ছেলে, নাতী সবাই আছে। সকলেই ওয়াদীর স্থানীয়। প্রতিদিনই মাগরিবের পর সবাই এসে আড্ডা দেয়, চা খায় তারপর রাতের খাবার খেয়ে বিদায় নেয়। এখন স্কুল কলেজ সেমিস্টার শেষের ছুটিতে আছে বিধায় আজ একটু উপস্থিতি বেশি। ছোটবড় সবাই একসাথে কেন এর উত্তরে জানালো তারা আমাদের দেখে শিখবে। সাত বছরের ছেলেও জানে কিভাবে চুমু দিয়ে অভিবাধন জানাতে হয়। ফ্যামিলি বন্ডিং খুব গভীর মনে হলো।
আড্ডাটি ছিল এক খামার বাড়িতে (মাজরায়)। মাজরার কিছুটা ভেতরে বেশ বড়সর একটা তাবু। তাবুর মধ্যখানে কয়লার আগুন জলছে আর আগুনের চার পাশে চায়ের কেটলি। তাবুর বেড়া ঘেঁসে সবাই আসন নিয়েছে। ছোট ছোট ছেলেরা আনন্দের সাথে সবাইকে চা পরিবেশন করছে, আর বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
আলোচনার শুরুতেই আমার আরবী বলা দেখে আমাকে বেদুইন আরব নারীর সাথে বিয়ে করিয়ে দেয়ার জোড় দাবি উঠলেও নিজের হায়াত বৃদ্ধির সুযোগ চেয়ে এই যাত্রায় বেচে গিয়েছি। অনেক কথা হলো, জানতে চাইলো বাংলাদেশ সম্পর্কে। আমাদের দেশের পর্যটনের বিষয়ে জানিয়েছি, কক্সবাজার, মহেশখালী, সুন্দরবন ও সিলেটের সৌন্দর্যের বিষয়ে অবহিত করেছি। কয়েকজন যাওয়ার আগ্রহ ও প্রকাশ করলো। জানিনা আরব পর্যটকদের জন্য আমাদের কোন আলাদা সার্ভিস আছে কিনা, তবে আমি কেরালার অনেক বিজ্ঞাপন দেখি আরব পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য।
ঢেঁকি সর্গে গেলেও নাকি ধান ভাংগে, সেই থিউরী অনুযায়ী এক পর্যায়ে আমি আমার আমল আর আমেল বিষয়ে কথা উঠালাম। কারা কারা আমেল এনে নিজের কাজ না করে বাইরে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে জানতে চাইলে ৫ জন হাত উঠিয়েছে। এসব আর সামনে চলবেনা জানালে বললো "তোমার লোকেরাই প্রথমে কদিন কাজ করার পর তাকে ফ্রি করে দিতে বলে, কি আর করার? দেখি সে বাইরেও কাজ করে আবার আমার কাজও করে"। তাদের কর্মীদের ১৪০০ রিয়াল হতে ৩৫০০ রিয়াল পর্যন্ত বেতন দেয় মর্মে জানায়।
জানতে চাইলে তাদের মধ্যে শুধু একজন কর্মীদের গত মাসের বেতন এখনো দেয়নি জানায়। হাদিসের কথা বলে তাকে দ্রুত বেতন পরিশোধ করে দিতে অনুরোধ করলে সে বলে তার ব্যাংক একাউন্ট জটিলতায় সমস্যা হচ্ছে, তবে দুই এক দিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে। কর্মীরাও এবিষয়ে জানে। কর্মী ভালো থাকলে উৎপাদন ভালো হবে এবং ব্যবসা বাড়বে এই মূলমন্ত্র বলে আস্ত খাসি খেয়ে বিদায় চাইলে আগামীতে আসলে বদু নারী বিয়ে করিয়ে দেয়ার হুমকী দিয়ে তিনটা গাড়ি আমাকে হোটেল পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com