মরিশাসস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২১ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। দিবসের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ।
দিবসটি উপলক্ষ্যে হাইকমিশন প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা,বিশেষ মোনাজাত, মুজিববর্ষের লোগোসম্বলিত কোর্টপিন বিতরণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জন্মশতবার্ষিকী’ এবং ‘বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী’ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সাথে একই সময়ে শপথ গ্রহণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মরিশাসে পুনরায় কোভিড-১৯ এর প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার কর্তৃক জারীকৃত নতুন প্রটোকল অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভার শুরুতে মান্যবর হাইকমিশনার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেন।দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করেন অত্র মিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মো: অহিদুল ইসলাম, কাউন্সেলর রাজীব ত্রিপুরা এবং প্রথম সচিব মৌসুমী ওয়াইজ।
মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ তার বক্তব্যে প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন- সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা ও স্বাধীনতার মহানস্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে।একই সাথে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতীয় চারনেতা, স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ সহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রম হারানো দুই লক্ষ মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, স্বাধীনতা শব্দটি অত্যন্ত মধুর, এই শব্দটি বাঙ্গালী জাতিকে শিখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, তাঁর ৭ই মার্চের দৃপ্ত ভাষনই বাঙ্গালী জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১৩ বছর ধরে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আমরা সবাই যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পারবো। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে সমুন্নত রেখে, প্রিয় মাতৃভূমিকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই বিজয়ের এই সুবর্ণজয়ন্তী ও আনন্দ-উল্লাস সত্যিকারঅর্থে পরমানন্দ হয়ে উঠবে, বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। সর্বক্ষেত্রে আমাদের উন্নয়নেরধারা অব্যাহত থাকুক-আজকের এই বিশেষ দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। মিশনের কর্মকর্তাদের শিশু কিশোরদের দেশত্মবোধক গানের সাথে মনোজ্ঞনৃত্যে দেশত্মবোধক গান সবাইকে মুগ্ধ করে।অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুসরনে মান্যবর হাইকমিশনার সমবেত অতিথিদের নিয়ে শপথ পাঠ করেন।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কেক কেঁটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।