স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:৩৮
মালয়েশিয়া থেকে বৈধপথে টাকা পাঠানোয় আশার আলো দেখছে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স হাউজগুলো। এরই মধ্যে তারা দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বৈধপথে অর্থ পাঠানোর কৌশল ও পদ্ধতি তুলে ধরেছেন।
জুলাই/ডিসেম্বর ২০২২, ৬ মাসে মালয়েশিয়া থেকে ৫শ ৪৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার, সমপরিমাণ ৫ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা অর্থ দেশে পাঠিয়েছে।
বিদায়ী বছরের নভেম্বর মাসের চেয়ে ডিসেম্বরে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত রেমিট্যান্স। চার বছর ধরেই টানা বাড়ছিল রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। ২০/২১ অর্থ বছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় আসে বাংলাদেশে। তবে বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আহরণে ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ অবস্থানে নেমে এসেছে যা গত ২০/২১ অর্থ বছরে গড়ে পাঠানো রেমিট্যান্সের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম।
মালয়েশিয়া থেকে বৈধপথে ২০২০-২১ অর্থ বছরে দেশে এসেছে ২ হাজার ২ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু গত অর্থ বছরে সে আয় কমে যায়। কারণ হিসেবে অনানুষ্ঠানিক বা হুন্ডিতে অর্থ পাঠাতে প্রতি ডলারে ৫-৬ টাকা বেশি পাওয়ায় তারা সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে।
হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় না বরং হুন্ডি ব্যবসায়ী তাদের কাছে যায় এবং দেশে অর্থ পাঠায়। আরেকটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে সেটি হলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের খরচের অর্থ সেখানে কর্মীদের বা করো কাছ থেকে নিয়ে দেশে প্রবাসীর পরিবারকে টাকা দেয় ফলে সে অর্থ বাংলাদেশে প্রবেশ করে না। এতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। এসব বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ প্রবাহ চালু রাখলে রেমিট্যান্স প্রবাহ পজিটিভ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বৈধপথে অর্থ পাঠালে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা এবং অর্থ তছরূপ হওয়ার ঝুঁকি না থাকায় সচেতন প্রবাসীরা বৈধপথে দেশে অর্থ পাঠানোর নিশ্চিত পথ ধরার প্রবণতা বেড়েছে। রেমিট্যান্স হাউজগুলো আশাবাদী যে এ প্রবণতা ধরে রাখা গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। তাই তাদের পক্ষে প্রণোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করা এবং ২.৫ শতাংশ প্রবাসীর নামে প্রভিডেন্ড ফান্ড করার প্রস্তাব করেছে।
তারা বলেছেন, প্রতিটি প্রবাসীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ পাঠানো বাধ্যতামূলক করতে। এজন্য যাদের ব্যাংক হিসাব নেই তারা বাংলাদেশি তিনটি রেমিট্যান্স হাউজে এসে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছে। রেমিট্যান্স হাউজগুলোর পক্ষে ডলার বন্ড ১ কোটি থেকে বৃদ্ধি করে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে ফলে প্রবাসীরা উৎসাহ পাবে।
এছাড়াও রেমিট্যান্স হাউজগুলো নিজস্ব প্রণোদনা দিচ্ছে। নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে। তবে মালয়েশিয়ার দূর-দূরান্তে থাকা প্রবাসীরা বলছেন, দেশীয় রেমিট্যান্স হাউজগুলো তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজের চিফ অ্যাক্সিকিউটিভ অফিসার ও ডাইরেক্টর সুলতান আহমেদ বলেন, বতর্মানে ডলারের বিনিময় হারের ব্যাপক তারতম্যের কারণে আমরা গ্রাহকদের উপযুক্ত বিনিময় রেট দিতে পারছি না।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া থেকে অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫ শতাংশ বোনাস দেওয়া হচ্ছে। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com