shopner bd
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
×

চাঁদা তুলে দেশে পাঠানো হয় রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের লাশ

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ১৭ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২৩

.
.

প্রবাসীদের বলা হয় রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। আর সেই প্রবাসী মারা গেলে যেন তার থাকে না কোনো মূল্য। হয়ে যান অবহেলার পাত্র। প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠানোর অর্থাভাবে অনেকের দেহ মর্গে পড়ে থাকে মাসের পর মাস। নয়তো চাঁদা তুলে পাঠাতে হয়।

তবে ইউরোপের দেশ গ্রিসে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করছে গ্রিস প্রবাসীদের বৃহত্তর সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিস।

ধরে নেওয়া যাক গ্রিসপ্রবাসী আজির উদ্দিনের কথা। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ইউরোপের দেশ গ্রিসে বসবাস করছেন। গেলো কয়েক মাস আগে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আজির। সেখানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার পরও জীবন যুদ্ধে জিততে পারেননি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন অনিয়মিত অবস্থায় ছিলেন।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দেশেও যেতে পারেননি। কিন্তু মারা যাওয়ার পর প্রায় ১০ দিন মরদেহ পড়ে ছিল হাসপাতালের মর্গে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় মরদেহ দেশে নিতে পারবেন না। তাই তার পরিবার লাশ দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতি অনুরোধ জানান।

এভাবেই প্রতিনিয়ত অকালে প্রবাসে ঝরে যাচ্ছেন রেমিট্যান্সযোদ্ধারা। এরপরই তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। কিন্তু শুধু লাশ দেশে পাঠাতে পরিবহন খরচ ছাড়াই হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার খরচ আসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। যা বহন করতে পারেন না সকল প্রবাসীর স্বজনরা।

দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে শুধু পরিবহন খরচ দেওয়া হয়। হাসপাতাল মর্গের খরচসহ সকল প্রক্রিয়ার খরচ বহন করে বাংলাদেশ কমিউনিটি। গ্রিস প্রবাসীদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের উদ্যোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন মাঠে নামে লাশ পাঠানোর টাকা সংগ্রহের কাজে।

তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিভিন্ন দোকানে দোকানে ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে পরিবহন খরচ বহন করে লাশ দেশে পাঠায় দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

এভাবেই সর্বশেষ ৭ বছরে গ্রিস থেকে মৃত্যুবরণকারী প্রায় আড়াই শতাধিক প্রবাসীর লাশ, প্রবাসীদের উত্তোলিত চাঁদার টাকায় বাংলাদেশে পাঠানোর সকল প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান এই বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখানে মারা যায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কমিউনিটি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে লাশ দেশে পাঠানোর জন্য আকুতি মিনতি জানানো হয়। কেউ মারা গেলে তাদের পরিবার যোগাযোগ না করলেও আমরা আমাদের দায়িত্ব মনে করে দ্রুত লাশটি দেশে পাঠানোর চেষ্টা করি। তবে আমাদের কোনো ফান্ড না থাকায় টাকা সংগ্রহ করতে কিছু সময় লাগে। কারণ এথেন্সে কেউ মারা গেলে দূতাবাস থেকে টিকিট দেওয়ার পরও বাংলাদেশের টাকা প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০/১৫ হাজারের মতো খরচ হয়।

তবে কোনো প্রবাসী যদি এথেন্সের বাইরে বা তুরস্ক সীমান্তে মারা যায় তখন আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার মতোও প্রয়োজন হয়। তবে খুব কম প্রবাসীর পরিবারই তাদের নিজ খরচে লাশ দেশে নিয়ে যায়। বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের উদ্যোগে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে চাঁদা উত্তোলন করে লাশগুলো দেশে পাঠাতে সহায়তা করে।

কমিউনিটির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো ফান্ড দেওয়া হয় বা সরকারিভাবে সকল খরচ বহন করে লাশটি যদি দেশে নেওয়া হয় তখন আর এত ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্সযোদ্ধারা সারাজীবন দেশের জন্যই রেমিট্যান্স পাঠান। তাই সরকারের উচিত বৈধ কিংবা অবৈধ সকল প্রবাসীর লাশ যাতে সরকারি খরচে দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনটাই দাবি প্রবাসীদের।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।