স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক ১৩ মে ২০২৩, ১১:৫৫
আমরা যখন ব্রিটিশ হাইকমিশন অফিসে পৌঁছাই তখন বাইরে মুক্তার মতো টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। গাড়ি থেকে নেমে অফিসের দরজায় পৌঁছে ছাতা বন্ধ করতে করতেই মিষ্টি হাসি দিয়ে আমাদের কাছাকাছি এসে অভ্যর্থনা জানালেন মধ্যবয়সী একজন হাসিখুশি নারী। জানতে পারলাম তিনিই হাইকমিশনার।
অনেক বড় হলরুম। সুনসান নীরবতা। চারপাশে সৌন্দর্যের সমারোহ। কিছু সবুজ গাছ ডানা মেলে টবে বসে আছে। দেয়ালে ঐতিহাসিক কিছু বাঁধানো ছবি। সুদেষ্ণা আমাকে এবং জাকির ভাইকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল। আমি সবটুকু হাসি একত্র করে তার দৃষ্টিতে ফিরিয়ে দিলাম।
আমাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করা শেষ হলে তিনি ও তার সহকর্মীরা আমাদের দুইতলায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে দেখলাম রানী এলিজাবেথের বিশাল ছবি। স্থির দৃষ্টিতে হাসিমুখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। আহা রানী! সেই জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তাকে এক রূপে দেখে আসছি।
মাঝে মধ্যেই সাংবাদিকেরা যখন রাজমহলের এই উত্তরাধিকারীনিকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করতেন তখন আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। এখনো পড়ি। ইতিহাস আমাকে টানে। আমরা দূরত্ব বজায় রেখে ঘরোয়া পরিবেশে সবাই মুখোমুখি বসে গল্প করছিলাম। পিরিচে বিভিন্ন বিস্কিট, মিষ্টি আর গাঢ় দুধ চা।
বাইরে তখনো অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। স্বচ্ছ কাচের এপাশ থেকে বারবার আমার মন ছুটে যেতে চাইছিলো বৃষ্টিতে ভিজতে। যদিও এ শহরের বৃষ্টিতে কখনো আয়োজন করে ভেজা হয়নি। যতটুকু ভিজেছি তা কাজের তাগিদে কিংবা লরিতে চড়তে চড়তে!
খেতে খেতে সবাই কথার ফুলঝুরি খুলে বসলাম। সবই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে। সেখানে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন যাপনের চিত্র উঠে এসেছে। আলাপনে উঠে এসেছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এদেশে সাহিত্য ও সাংস্কৃতি চর্চার বিষয়গুলো।
ফুটে উঠেছে একে অপরের প্রতি মানবিকতার বিষয়গুলো। কী করণীয় কী বর্জনীয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি এবং জাকির ভাই যখন তাকে আমাদের বইগুলো উপহার দেই তখন তার ভ্রু কুচকে গিয়েছিল। কপালে অনেকগুলো ভাঁজ দেখে বুঝতে পেরেছি তিনি অনেকটা অবাক হয়েছেন যে আমরা এদেশে শ্রম দিতে এসে আবার বইও বের করছি! আবার সেই বই পুরস্কারও পাচ্ছে!
আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে গেছি। ঘটনাটি বেশ কিছু দিন আগের। অনেকেই হয়তো জানে না সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে অবদান স্বরূপ আটজন নারীর সঙ্গে সুদেষ্ণা রায় চৌধুরীর নামটিও ‘‘Her World's Women Of The Year Award’’ এ এসেছে। যা সত্যিই আমাকে বিস্মিত করেছে। আমার বিশ্বাস সুদেষ্ণার এই অর্জন আগামীতে তাকে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার মনোবল তৈরি করে দেবে।
সবশেষে আড্ডায় সুদেষ্ণা সংক্ষিপ্তভাবে লকডাউনে প্রবাসীদের সঙ্গে কাজ করার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। অতঃপর হাইকমিশনার বিনীতভাবে কিছু মতামত প্রকাশ করলেন। সাচ্ছন্দ্যে আমাদের সঙ্গে কিছু ছবি তুলে আবারও দরজায় এসে পৌঁছে দিলেন। বিদায় নেওয়ার আগে লক্ষ্য করলাম আলাপে আলাপে দেড় ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো!
প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫
মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬
ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯
ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com