shopner bd
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩২
×

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ক্রমবর্ধমান ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক

  স্বপ্নের বাংলাদেশ ডেস্ক    ১৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:২৪

.
.

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশ দুটির পারস্পরিক সহযোগিতার হাতও সুদৃঢ়। উভয় দেশ কমনওয়েলথ অব নেশনস, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন, উন্নয়নশীল ৮টি দেশ, জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য।

মালয়েশিয়া স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ মালয়েশিয়া। বিশ্বের একটি বড় বাণিজ্য দেশ হওয়ায় মালয়েশিয়াকে আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে এবং বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান প্রসারিত হচ্ছে যা বাংলাদেশকে ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার করে তুলেছে।

বর্তমান সময়ে দু’দেশের মধ্যকার বাণিজের পরিমাণ প্রায় ৩৭১.৮৪ মিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে ছিল মাত্র ৫৬ মিলিয়ন ডলার। যা থেকে দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আঁচ করা যায়।

বাংলাদেশ ৬৫ ধরনের বিভিন্ন পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করে থাকে। রপ্তানি আয়ের বড় আসে তৈরি পোশাক খাত হতে। এছাড়াও শাক-সবজি, খাদ্যসামগ্রী, মাছ, সিরামিক পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, পাটজাত পণ্য, খেলনা, মেশিনারিজ পণ্য প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে।

বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির বড় বাজারও দেশটি। দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে দেশটিতে শুরু হয় বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখেরও বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় এসেছেন। ২০২৩ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ব্যাপক সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন।

সেকেন্ড হোম হিসেবে কয়েক হাজার অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন বাংলাদেশি বিত্তশালীরা। শুধু হোটেল-রেস্টুরেন্টই নয়, জমি-জমা লিজ নিয়ে কৃষি খামার বা ডেভেলপমেন্ট ব্যবসা, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, হোম সার্ভিস, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, গাড়ি বেচাকেনা বা ভাড়ায় ব্যবসা, আইটি ব্যবসা, ফাস্ট ফুড, কফি সপসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন অনেক বাংলাদেশি।

মালয়েশিয়ায় সম্ভাবনাময় ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন চেইন শপের ফ্যাঞ্চাইজি, ল্যাঙুয়েজ সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস স্থাপন, সেলুন দোকান, কারওয়াশ, রেন্ট-এ কার, সাইবার ক্যাফে, মোবাইল লোড-ফটোকপির দোকান, টেইলারিং শপ, ফলের দোকান, প্রিন্টিং ব্যবসা ইত্যাদি। এছাড়াও কিছুটা বড় পরিসরে জমি লিজ নিয়ে সবজি আবাদ/কৃষি খামার, মৎস্য চাষের মতো ব্যবসা করা যায়।

উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। পাশাপাশি বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া। উভয় দেশ তাই নিজেদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রগুলো ক্রমশ সম্প্রসারিত করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

প্রধান সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবুল বশির
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মনির হোসেন
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

মোবাইলঃ +৮৮ ০১৮১৩ - ৮১৮৬৯৬

ফোনঃ +৮৮ ০২ - ৫৫০১৩৯৩৯

ইমেইলঃ shwapnerbd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০২১ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।